
ওড়িশাতে জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। ভিড়ে ঠাসা পুরী। কথিত আছে জগন্নাথের রথ টানলে নাকি সব পাপ ধুয়ে যায়? কিন্তু কেন এমন মাহাত্ম্য এই দড়ির? জানেন কী?
হয়তো সবাই ভাববে ভগবানের রথ বলে তাতে হাত দেওয়া পুন্যের কিন্তু শুধুই কি তাই? না এতে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় ইতিহাস? আসলে হিন্দু ধর্মে রথ মানে কোনও পরিবহন নয়, রথ মানে মানুষের দেহ। হিন্দু শাস্ত্রে মানুষের দেহকেই রথের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর আমাদের পাঁচটা ইন্দ্রিয় হল রথের ঘোড়া। আর আমাদের মন হল রথের ঘোড়াগুলোকে ধরে রাখার দড়ি।
বলা হয় অহঙ্কার ত্যাগ করে শৃঙ্খলা ও ইচ্ছাশক্তিই মানুষের জীবন এগিয়ে চলে। রথের দড়ি টানা মানে নিজের শরীর, মন আর অনুভূতিকে স্বয়ং ঈশ্বরের হাতে তুলে দেওয়া। আর দেহে ঈশ্বর বিরাজ করে সেই বিশ্বাসকে ফের ঝালিয়ে নেওয়া। রথের দড়ি টানা মানে মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। ইন্দ্রনীলময় পুরাণ ও সূতসংহিতায় উল্লেখ রয়েছে, রথে বিরাজমান বামনরূপী জগন্নাথদেবকে দর্শন করে তাঁর রশি স্পর্শ বা সামান্য টানলেও ভক্ত পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে মুক্তির আশীর্বাদ লাভ করেন। অন্যদিকে, স্কন্দপুরাণ ও বামদেব সংহিতা অনুযায়ী, রথের দড়ি টানার পুণ্যফল অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান বলে বিবেচিত হয়।
এছাড়া কপিল সংহিতায় বর্ণিত আছে, গুণ্ডিচা যাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথের দর্শন মানুষের সমস্ত পাপ মোচন করে। এই বিশ্বাস যুগ যুগ ধরে ভক্তদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত।
রথযাত্রার সূচনা হয়, বড়ভাই বলভদ্র বা বলরামের রথ তালধ্বজ দিয়ে। পুরীতে এই রথের উচ্চতা ৪৪ ফুট। মোট ৭৬৩টি কাঠের ঠুকরো দিয়ে সাজানো হয় এই রথ। এরপরই আসে সুভদ্রার রথ। এই রথের নাম দর্পদলন। এই রথের উচ্চতা ৪৩ ফুট। পতাকায় পদ্মের চিহ্ন থাকে বলে এই রথকে অনেকে পদ্মধ্বজ নামেও চেনেন। এরপর জগন্নাথের রথ আসে। যার নাম নন্দীঘোষ। এই রথের উচ্চতা ৪৫ ফুট।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News