সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিউটি স্টোর - সব জায়গায় এখন বায়োটিন তেলের হাইপ। কিন্তু বর্ষার আদ্রতায় এই তেল সবার জন্য নয়। জেনে নিন কারা মাখবেন আর কারা এড়িয়ে যাবেন।
গত কয়েক মাসে বিউটির দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম "বায়োটিন"। শ্যাম্পু, সিরাম, ক্যাপসুলের পর এখন বাজারে এসেছে বায়োটিন হেয়ার অয়েল। ব্র্যান্ডগুলো দাবি করছে এই তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমবে, নতুন চুল গজাবে আর চুল হবে আগের থেকে মোটা ও জেল্লাদার। ইনস্টাগ্রাম রিল থেকে বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার - সবার মুখেই এখন একটাই নাম।
কিন্তু সমস্যা হল বর্ষা এসে গেছে। এই সময়ে কলকাতা সহ গোটা বাংলায় বাতাসে আদ্রতা ৮০ শতাংশের ওপর থাকে। এই আবহাওয়ায় ভারী তেল স্ক্যাল্পে অনেকক্ষণ রাখলে ঘাম, চুলকানি আর ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ভয় থাকে। তাহলে হাইপ দেখে বায়োটিন তেল কি আদৌ মাখা উচিত? উত্তর হল হ্যাঁ, তবে কিছু নিয়ম মানতে হবে।
বায়োটিন আসলে ভিটামিন B7। একে "বিউটি ভিটামিন" ও বলা হয় কারণ এটি চুল, ত্বক আর নখের জন্য খুবই উপকারী। বাজারের বায়োটিন তেলে সাধারণত বায়োটিনের সাথে নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল বা রোজমেরি অয়েল মেশানো থাকে। এই তেল মূলত তিনটি কাজ করে। প্রথমত, এটি কেরাটিন প্রোডাকশন বাড়িয়ে চুলের গোড়া শক্ত করে ফলে চুল ভেঙে পড়া কমে। দ্বিতীয়ত, স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আর তৃতীয়ত, পাতলা চুলে ভলিউম দিয়ে চুলকে মোটা দেখায়।
বর্ষায় বায়োটিন তেল মাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হল পরিমাণ আর সময়। সপ্তাহে একবারের বেশি না মাখাই ভালো। আর তেল লাগানোর পর সারাত রেখে দেওয়ার অভ্যাস এখনই বদলান। বর্ষায় তেল লাগিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। তেল লাগানোর আগে হালকা গরম করে নিলে তা স্ক্যাল্পে দ্রুত অ্যাবসর্ব হবে। ঠান্ডা ভারী তেল স্ক্যাল্পের ওপর বসে থেকে সমস্যা বাড়াতে পারে।
এবার আসি সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নে - কারা এই তেল ব্যবহার করবেন। যাদের চুল পাতলা, সহজে ভেঙে যায় বা ড্যামেজড, তাদের জন্য বায়োটিন তেল বেশ ভালো কাজ দেয়। যাদের স্ক্যাল্প শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রেও বায়োটিন মেশানো তেল ড্রাইনেস কমাতে সাহায্য করে। তবে যাদের স্ক্যাল্প অয়েলি, খুশকির সমস্যা আছে বা স্ক্যাল্পে চুলকানি ও ফাঙ্গাল অ্যাকনের প্রবণতা আছে, তাদের এই বর্ষায় বায়োটিন তেল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ভারী তেল এই সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের চুল এমনিতেই খুব ঘন ও ভারী, এক্সট্রা তেল ব্যবহার করলে চুল চিটচিটে লাগবে।
বর্ষায় বায়োটিন তেল ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো উপায় হল একে প্রি-শ্যাম্পু ট্রিটমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা। চুল ধোয়ার এক ঘণ্টা আগে শুধু গোড়ায় অল্প করে লাগিয়ে ৫ মিনিট আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করুন। নখ ব্যবহার করবেন না। তেল যদি খুব ঘন হয় তাহলে ২ ফোঁটা তেলের সাথে ১ ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে হালকা করে নিতে পারেন।
শেষে একটা কথা মনে রাখতে হবে, বায়োটিন তেল কোনো ম্যাজিক সলিউশন নয়। এটি একটি সাপোর্টিং প্রোডাক্ট মাত্র। বর্ষায় চুল ভালো রাখার ৮০ শতাংশ নির্ভর করছে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা আর ঠিক সময়ে চুল ধোয়ার ওপর। আপনার স্ক্যাল্প যদি নরমাল বা ড্রাই হয় এবং চুল পড়ার সমস্যা থাকে, তাহলে সপ্তাহে একবার বায়োটিন তেল ট্রাই করে দেখতে পারেন। কিন্তু কোনো রকম স্ক্যাল্পের সমস্যা থাকলে আগে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


