Rice Kanji: পান্তা নয়, তবু পান্তার মতো! গ্রীষ্মে শরীর ঠান্ডা রাখে রাইস কাঞ্জি, জানুন রেসিপি

Published : Apr 20, 2026, 06:12 PM IST
Rice Kanji keeps the body cool in summer know how to make at home

সংক্ষিপ্ত

রাইস কাঞ্জি হল দক্ষিণ ভারতের ফার্মেন্টেড চালের জল, যা দেখতে পান্তার মতো হলেও উপকারিতায় আলাদা। রাতে রান্না করা ভাতে জল দিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক তৈরি হয়। সঙ্গে নুন, কারি পাতা আর দই মিশিয়ে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে আর হজম ভালো হয়।  

গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে বাঙালির পান্তা যেমন, দক্ষিণ ভারতীয়দের ভরসা তেমনই রাইস কাঞ্জি। সহজ, সস্তা আর পুষ্টিকর এই খাবার এখন স্বাস্থ্যসচেতনদের নতুন পছন্দ। তীব্র গরমে শরীরে জলের অভাব, ক্লান্তি আর হজমের সমস্যা লেগেই থাকে। এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁলে শরীর থেকে দ্রুত জল আর খনিজ বেরিয়ে যায়। এই সময়ে দক্ষিণ ভারতের গ্রামে গ্রামে সকালের প্রথম খাবার হিসেবে খাওয়া হয় রাইস কাঞ্জি। চাল ভিজিয়ে রেখে ফার্মেন্ট করে তৈরি এই পাতলা জাউ জাতীয় খাবার দেখতে পান্তার মতো হলেও স্বাদ আর উপকারিতায় অনেকটা আলাদা।

কীভাবে তৈরি হয় এই কাঞ্জি?

প্রক্রিয়াটা একেবারেই ঘরোয়া। রাতে ভাত রান্না করে ঠান্ডা করে তাতে পরিষ্কার জল ঢেলে মাটির পাত্রে ঢেকে রাখা হয়। ৮-১০ ঘণ্টা ফার্মেন্টেশনের পর সকালে তাতে নুন, মৌরি, কারি পাতা, কাঁচালঙ্কা আর এক চামচ দই মিশিয়ে খাওয়া হয়। কেউ কেউ স্বাদের জন্য নারকেল কোরা বা ছোট পেঁয়াজ কুচিও যোগ করেন। ফার্মেন্টেশনের ফলে এতে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক তৈরি হয়, যা পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর, খরচ কম

পুষ্টিবিদদের মতে, রাইস কাঞ্জিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন, পটাশিয়াম আর ইলেক্ট্রোলাইটের পরিমাণ বেশি থাকে। এটি শরীরকে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং গরমে হওয়া গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমায়। যেহেতু এটি খুব হালকা এবং সহজে হজম হয়, তাই বয়স্ক, শিশু এমনকি অসুস্থ মানুষের জন্যও আদর্শ। মাত্র এক বাটি কাঞ্জি আর সঙ্গে আচার হলেই পেট ভরে যায়, অথচ খরচ প্রায় নেই বললেই চলে।

পান্তার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

বাঙালির পান্তা সাধারণত ঠান্ডা ভাতে জল ঢেলে তৈরি হয় এবং সঙ্গে থাকে আলু ভর্তা বা শুকনো লঙ্কা। অন্যদিকে রাইস কাঞ্জি হলো ফার্মেন্টেড চালের জল, যার স্বাদ একটু টক। তামিলনাড়ুতে একে ‘গঞ্জি’, কেরলে ‘পেঝ’ আর কর্ণাটকে ‘মব্বে গঞ্জি’ বলা হয়। সেখানে এটি শুধু গরমের খাবার নয়, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ।

শহরেও বাড়ছে জনপ্রিয়তা

আগে গ্রামের খাবার বলে পরিচিত হলেও এখন শহরের স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যেও রাইস কাঞ্জির চাহিদা বাড়ছে। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা এনার্জি ড্রিঙ্কসের বদলে এই প্রাকৃতিক পানীয়কে বেছে নিচ্ছেন অনেকে। পুষ্টি, স্বাদ আর ঐতিহ্য — তিনটেই একসঙ্গে পাওয়ায় রাইস কাঞ্জি হয়ে উঠছে গ্রীষ্মের নতুন সঙ্গী।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Trekking For the Beginners: প্রথমবার ট্রেকিংয়ে যাবেন? রইল ৫টি সহজ ও রোমাঞ্চে ভরা রুটের হদিশ
টোস্টারে বান পনির টিক্কি থেকে কলা টোস্ট, রইল সেরা জলখাবারের রেসিপি