
দার্জিলিং, গ্যাংটকের ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলিতে পাহাড়কে অনুভব করতে চান? তাহলে আপনার ঠিকানা হোক রিশপ। যেখানে গাছের ঘনত্ব এতটাই যে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো ঢুকতে হিমশিম খায়, আর রাতে চাঁদের আলোয় সেই পাইন বন হয়ে ওঠে মায়াবী। সামনে ১৮০ ডিগ্রি খোলা কাঞ্চনজঙ্ঘা, পাথুরে রাস্তা আর হিমেল নিস্তব্ধতা - রিশপ শুধু জায়গা নয়, এক অনুভূতি।
কালিম্পং থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরে, ২৫৯১ মিটার উচ্চতায় ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম রিশপ। লাভা থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামটিকে বলা হয় 'মেঘের দেশ'।
কেন যাবেন রিশপে?
১. চাঁদনি রাতে পাইন বনের জাদু: রিশপের আসল আকর্ষণ এর পাইন বন। দিনের বেলায় ঘন সবুজ, গা ছমছমে জঙ্গল। আর পূর্ণিমার রাতে টর্চ ছাড়া এই বনের মধ্যে দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা জীবনে ভুলবেন না। চাঁদের আলো পাইন পাতার ফাঁক দিয়ে মাটিতে পড়ে, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর দূরে পাহাড়ের আলো - মনে হবে কোনও রূপকথার রাজ্যে আছেন। স্থানীয় গাইড নিয়ে এই নাইট ওয়াক করতেই পারেন।
২. ঘর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা: রিশপে কোনও হোটেলের জানালা কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়া অসম্পূর্ণ। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাবরু, সিনিয়লচু - পুরো স্লিপিং বুদ্ধা রেঞ্জ একদম হাতের সামনে। সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠে হোমস্টের বারান্দায় এক কাপ চা নিয়ে সানরাইজ দেখা - এটাই তো আসল পাহাড়।
৩. টিফিনদারা ভিউ পয়েন্ট: রিশপের সবচেয়ে উঁচু জায়গা টিফিনদারা। ১৫ মিনিটের ছোট্ট ট্রেক। এখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। একদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, অন্যদিকে নাথুলা, জেলেপলা।
কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?
শিয়ালদা থেকে ট্রেনে NJP, তারপর গাড়িতে কালিম্পং হয়ে লাভা, লাভা থেকে রিশপ। রাস্তার শেষ ৪ কিমি পুরোটাই পাথুরে ও জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে, সেই পথটাই এক অ্যাডভেঞ্চার।
থাকার জন্য এখন অনেক সুন্দর হোমস্টে আছে। জনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকায় থাকা-খাওয়া।
সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ - কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যায়। আর বর্ষায় পাইন বন হয়ে ওঠে আরও ঘন, আরও সবুজ।
ভিড় নয়, যদি নিস্তব্ধতাকে ভালোবাসেন, তাহলে একবার রিশপ ঘুরে আসুন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News