
Tourism: ওড়িশা (Odisha) মানেই হল সৌন্দর্যের একটি খনি। বাংলার উত্তরবঙ্গের মতোই এই রাজ্যে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে গেলে আপনি আপনার চোখকে বিশ্বাস করতে পারবেন না। ভাবতে বাধ্য হবেন, এরকম জায়গাও ওড়িশায় থাকতে পারে। আপনিও যদি একটু কম বাজেটের মধ্যে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তাহলে আজ আপনাদের এমন এক সুন্দর জায়গার সন্ধান দেব যেখানে গেলে আপনি খুশি হয়ে যাবেন গ্যারান্টি। আজ কথা হবে ‘সাপুয়া ড্যাম’ (Sapua Dam) নিয়ে।
ঢেঙ্কানল জেলার হিন্দোল ব্লকে, সাপুয়া নদীর ওপর তৈরি হয়েছে এই ড্যাম। এটি একটি মাঝারি সেচ প্রকল্প হিসেবে তৈরি হলেও এর ডিজাইন এটিকে বিখ্যাত করেছে। ওপর থেকে ড্রোনে দেখলে দেখা যায় ড্যামটি ইংরেজি S অক্ষরের মতো আঁকাবাঁকা হয়ে জলের ওপর দিয়ে গেছে, ঠিক যেন একটি বিশাল সাপ ফণা তুলে রয়েছে। ওড়িয়া ভাষায় সাপকে ‘সাপুয়া’ বলা হয়, সেই থেকেই এর নাম। এর উচ্চতা প্রায় ২৬ মিটার এবং লম্বা প্রায় ১২৯০ মিটার। চারপাশে ঘন শাল, সেগুনের জঙ্গল আর দূরে ছোট ছোট পাহাড়।
বর্ষার পর যখন ড্যামে জল ভর্তি হয়ে যায়, তখন চারপাশের সবুজ জঙ্গলের প্রতিচ্ছবি পড়ে নীল জলে। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা ভেসে বেড়ায় জলের ওপর। বিকেলের দিকে সূর্যের আলো যখন জলে পড়ে, তখন মনে হয় পুরো জায়গাটা সোনার মতো জ্বলছে। ভিড় একদম নেই বললেই চলে। কলকাতার কাছাকাছি উত্তরবঙ্গের যে ফিলটা পান, এখানেও সেই একই শান্তি পাবেন। যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি হিডেন জেম।
১. ড্যামের ওপরের সাপের মতো ব্রিজে হেঁটে বেড়াতে পারবেন। ২. স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে জলাধারে ঘুরতে পারবেন। ৩. পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক করতে পারবেন। শীতকালে এখানে প্রচুর মানুষ পিকনিক করতে আসে। ৪. পাখি দেখার জন্য আদর্শ জায়গা। শীতকালে পরিযায়ী পাখিও আসে।
এটাই সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। খুব কম খরচে ঘোরা যায়।
কলকাতা থেকে: হাওড়া থেকে ট্রেনে ঢেঙ্কানল। সেখান থেকে অটো বা গাড়িতে হিন্দোল হয়ে সাপুয়া ড্যাম। দূরত্ব ৩৫ কিমি।
ভুবনেশ্বর থেকে: মাত্র ৯০-৯৫ কিমি। NH-55 ধরে রসোল, হিন্দোল হয়ে ২ ঘণ্টার রাস্তা। বাইকে বা স্কুটিতে সহজেই একদিনে ঘুরে আসা যায়। গাড়ি ভাড়া করলে ২৫০০-৩০০০ টাকায় হয়ে যাবে।
থাকা-খাওয়া: ড্যামের কাছে কোনও বড় হোটেল নেই। হিন্দোলে বা ঢেঙ্কানল শহরে ৮০০-১২০০ টাকায় ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন। খাবারের জন্য নিজের সঙ্গে জল ও শুকনো খাবার নিয়ে যাওয়াই ভালো, তবে স্থানীয় চায়ের দোকানে দারুণ চা পাবেন।
সেরা সময় নভেম্বর থেকে মার্চ। এই সময় জল থাকে ভর্তি, আবহাওয়া মনোরম। বর্ষাকালে জল বেশি থাকলেও রাস্তা পিচ্ছিল থাকতে পারে। সপ্তাহের মাঝে গেলে পুরো জায়গাটা ফাঁকা পাবেন, নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারবেন। একঘেয়ে পুরী-দার্জিলিং ছেড়ে এবার একটু অফবিট ট্রাই করুন। সাপুয়া ড্যামের সঙ্গে একই ট্যুরে ঘুরে নিতে পারেন কপিলাস পাহাড়ের শিব মন্দির এবং সপ্তসজ্যা ড্যাম। কম বাজেটে একদিনের এই ট্রিপ আপনার মনে থেকে যাবে বহুদিন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News