Asanbani Tourism: পুজোর ভিড় বা শহরের কোলাহল থেকে দুটো দিনের জন্য মুক্তি চান? কলকাতা থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার দূরত্বে রয়েছে এক অপূর্ব অফবিট ঠিকানা আসানবনি। যেখানে একসঙ্গে পাবেন ছোট ছোট পাহাড়, ঘন শালের জঙ্গল আর নীল জলাধার।

Jharkhand Tourism: উইকেন্ডে কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু দীঘা-মন্দারমণি বা পুরুলিয়ার ভিড়ে যেতে চান না? তাহলে আপনার জন্য আদর্শ ঠিকানা হতে পারে আসানবনি। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় অবস্থিত এই ছোট্ট জনপদটি এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেক দূরে। কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ২৫০ কিলোমিটার, গাড়িতে ৫ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। নামটা শুনে অনেকেই ভাবেন এটি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, কিন্তু আসলে এটি জামশেদপুরের খুব কাছে অবস্থিত একটি শান্ত পাহাড়ি গ্রাম।

আসানবনিতে কী দেখবেন?

আসানবনির আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার বৈচিত্র্যে। এখানে একই সঙ্গে আপনি তিনটি জিনিসের স্বাদ পাবেন, পাহাড়, অরণ্য এবং জলাধার। ১. পাহাড় ও ট্রেকিং: এখানে সকাল শুরু হয় পাহাড়ের কোলে সূর্যোদয় দিয়ে। এখানকার পাহাড়গুলি খুব বেশি উঁচু নয়, ছোট ছোট টিলা। তাই যাঁরা কখনও ট্রেক করেননি, তাঁরাও সহজেই পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে ওপরে উঠতে পারবেন। পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের ঘন সবুজ অরণ্য আর দূরে জামশেদপুর শহরের ভিউ অসাধারণ লাগে। ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য আসানবনি থেকে বুরুডি ড্যাম বা দলমা পাহাড় পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার রুটও রয়েছে।

২. ঘন শালের জঙ্গল: পাহাড়ের পরেই রয়েছে ঘন শাল-পিয়াল ও মহুয়ার জঙ্গল। এই অরণ্যে নিরিবিলিতে হাঁটার অভিজ্ঞতাই আলাদা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে শুধু পাখির ডাক আর পাতার খসখস শব্দ শুনতে পাবেন। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে ময়ূর, হরিণ বা নানা রঙের পাখির। জঙ্গলের বুক চিরে চলে গেছে লাল মাটির আঁকাবাঁকা রাস্তা, যা ছবি তোলার জন্য পারফেক্ট। বর্ষার পরে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জঙ্গল আরও সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে, তাই এখনই যাওয়ার সেরা সময়। ৩. নীল জলাধার ও লেক: আসানবনির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর জলাধার। পাহাড় আর জঙ্গলের মাঝে শান্ত নীল জলের লেক। স্থানীয়দের কাছে এটি আসানবনি ড্যাম নামেও পরিচিত। এখানে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। চাইলে লেকের ধারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দিতে পারেন। বিকেলের দিকে লেকের জলে সূর্যের আলোর প্রতিফলন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। অনেকে এখানে পিকনিকও করেন।

কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?

কলকাতা থেকে গাড়িতে যেতে চাইলে কোলাঘাট, খড়গপুর, ঘাটশিলা হয়ে আসানবনি যেতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। রাস্তা খুবই ভালো। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে সকালের ইস্পাত এক্সপ্রেস, স্টিল এক্সপ্রেস বা বরবিল জনশতাব্দী ধরে ঘাটশিলা বা টাটানগর জংশনে নামুন। সেখান থেকে অটো বা গাড়ি ভাড়া করে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই আসানবনি পৌঁছে যাবেন। এখানে বড় বিলাসবহুল হোটেল না থাকলেও থাকার জন্য বেশ কিছু সুন্দর ইকো রিসর্ট, কটেজ ও হোমস্টে রয়েছে। যেমন আসানবনি হিল রিসর্ট, দলমা রিসর্ট ইত্যাদি। দিনপ্রতি ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে ভালো থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন। এখানে দেশি মুরগির ঝোল আর ভাত খুব বিখ্যাত, অবশ্যই ট্রাই করবেন। পুজোর সময় ভিড় হয়, তাই আগে থেকে বুক করে যাওয়াই ভালো। কম খরচে, ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে দুটো দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে আসানবনি হতে পারে আপনার এবারের সেরা উইকেন্ড ডেস্টিনেশন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।