
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে শেহনাজকে নাক দিয়ে ধোঁয়া টানতে দেখা যাচ্ছে। দেখে অনেকেই ভাবছেন তিনি ধূমপান করছেন। কিন্তু আসলে এটি সাধারণ সিগারেট বা বিড়ির ধূমপান নয়, এটি আয়ুর্বেদের একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি যার নাম ‘ধূমপান’ বা ‘ধূম্রপান চিকিৎসা’।
শেহনাজ ট্রেজারি আয়ুর্বেদের ফ্যান। মাঝেমধ্যেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ক্লিনিকে গিয়ে নিজের যত্ন নেন। সম্প্রতি এক আয়ুর্বেদিক রিট্রিটে ছুটি কাটাতে গিয়েছে ইনফ্লুয়েন্সর। সেখানেই ‘ধূমপান’ (Dhumapana)-এর সাহায্য নেন শেহনাজ। পান পাতার মাধ্যমে নাক দিয়ে ধোঁয়া টানছেন
আয়ুর্বেদে ধূমপান মানে নেশার জন্য ধোঁয়া টানা নয়। এটি একটি থেরাপি।
চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতায় এর উল্লেখ আছে। বিশেষ ভেষজ, যেমন - হলুদ, ঘি, যষ্টিমধু, ব্রাহ্মী, দারচিনি-সহ বিভিন্ন ঔষধি গাছের পাতা দিয়ে তৈরি বাতি বা স্টিক তৈরি করা হয়। সেই বাতিতে আগুন দিয়ে তার ধোঁয়া মুখ বা নাক দিয়ে টেনে নাক দিয়ে বা মুখ দিয়ে ছাড়া হয়। একে বলে ধূমপান।
এর সঙ্গে নিকোটিন বা তামাকের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ মেডিকেটেড স্মোক।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, শরীরে কফ দোষ বেড়ে গেলে এই থেরাপি দেওয়া হয়।
১. সাইনাস ও সর্দি: নাকে সর্দি জমে থাকা, নাক বন্ধ, সাইনোসাইটিসে এটি খুব কার্যকর। ধোঁয়া নাকের ভেতরের জমে থাকা কফ বের করে দেয়।
২. মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেন: কফজনিত মাথা ব্যথা, ভারী মাথা লাগা কমাতে সাহায্য করে।
৩. গলা ব্যথা ও কাশি: গলায় কফ জমে থাকলে, গলা খুসখুস করলে আরাম দেয়।
৪. চুল পড়া ও চোখের সমস্যা: আয়ুর্বেদ মতে মাথা ও ঘাড়ের উপরের রোগে ধূমপান উপকারী।
সাধারণত ৩ ধরনের ধূমপান হয় - স্নেহন, মধ্যম ও তীক্ষ্ণ। রোগ অনুযায়ী ধোঁয়ার ধরন বদলায়। দিনে ৩-৪ বার, খাওয়ার পর এটি করার নিয়ম। নিজে নিজে বাড়িতে সিগারেটের মতো করে করলে ক্ষতি হবে। অবশ্যই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শে করা উচিত। তাই শেহনাজ যেটা করছেন, সেটা স্টাইল বা নেশা নয়, সম্ভবত কোনও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বা পঞ্চকর্ম থেরাপির অংশ।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News