
ছোট্ট ছেলেটা সারাদিন মায়ের আঁচল ধরে ঘোরে। মা রান্না করে, সে পাশে বসে খেলনা নিয়ে খেলে। মা কাপড় কাচে, সে জলের বালতিতে হাত দেয়। আপনি ভাবছেন সে শুধু দুষ্টুমি করছে? ভুল। ও আসলে ক্লাস করছে। মা-ই ওর ইউনিভার্সিটি।
মনোবিদরাও বলেন, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চা ৯০% শেখে "দেখে দেখে"। "করো এটা, করো না ওটা" বলে লাভ নেই। আপনি যা করবেন, ওটাই ওর কাছে "ঠিক"। তাই মায়ের প্রতিটা ছোট কাজই ছেলের কাছে একটা বড় পাঠ।
মাকে দেখে ছোট্ট ছেলে এই ৬ শিক্ষা পায়:
১. সহানুভূতি আর মায়া পাড়ার বিড়ালটা ডাকছে দেখে মা এক বাটি দুধ দিল। রাস্তার ভিখারিকে মা ভাত বাড়িয়ে দিল। ছেলে এগুলো দেখে। ও শেখে, "অসহায়কে সাহায্য করতে হয়"। কেউ শেখায় না, ও নিজেই শিখে যায় মায়া দেখাতে। বড় হয়ে ও-ই হবে সেই ছেলে যে বাসে বয়স্ক মানুষকে সিট ছেড়ে দেবে।
২. ধৈর্য আর সহ্য শক্তি মায়ের দিন শুরু হয় সবার আগে, শেষ হয় সবার পরে। বাচ্চা কাঁদলে মা ঘুম বাদ দেয়। স্বামী রেগে গেলে মা চুপ করে যায়। ছেলে দেখে, "ঝামেলা হলেই চিৎকার করতে হয় না"। ও শেখে ধৈর্য ধরতে। স্কুলে বন্ধু খেলনা কেড়ে নিলেও ও মারামারি করে না। বলে, "আচ্ছা তুই নে"। এই ধৈর্যটা মায়ের থেকেই আসে।
৩. পরিশ্রমের মূল্য মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাটে। রান্না, ঘর মোছা, বাজার – এক হাতে সব সামলায়। অথচ কোনো দিন বলে না "আমি ক্লান্ত"। ছেলে দেখে, "কাজ ফাঁকি দেওয়া যায় না"। ও শেখে পরিশ্রম করতে। পড়ার টেবিলে বসতে না চাইলেও মাকে দেখে ও বই খোলে। কারণ ও জানে, জীবনে কিছু পেতে গেলে খাটতে হয়।
৪. সম্মান দেওয়া বাবা বাড়ি ফিরলে মা হাসিমুখে জল দেয়। শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে মা নরম গলায় কথা বলে। ছোট বোন এলে মা আদর করে। ছেলে এই ব্যবহার দেখে। ও শেখে বড়কে সম্মান, ছোটকে স্নেহ করতে। রাস্তায় কাকু-কাকিমা দেখলে ও নিজেই "প্রণাম" করে। কেউ শেখায়নি, মাকে দেখেই শিখেছে।
৫. সমস্যার সমাধান গ্যাস ফুরিয়ে গেল, কারেন্ট নেই, বাচ্চা জ্বর – মা ঘাবড়ায় না। মা তৎক্ষণাৎ বিকল্প রাস্তা বের করে। উনুন জ্বালে, হাতপাখা দেয়, জলপট্টি দেয়। ছেলে দেখে, "সমস্যা এলে কাঁদতে হয় না, সমাধান খুঁজতে হয়"। ও-ও বড় হয়ে লাইফের ঝামেলায় ভেঙে পড়ে না। মাথা ঠান্ডা রেখে রাস্তা বের করে। এই "Problem Solving" স্কিলটা MBA-তে শেখায় না, মা শেখায়।
৬. নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছেলে মায়ের নতুন শাড়িতে কালি ঢেলে দিল। মা ২ মিনিট বকল, তারপর নিজেই দাগ তুলতে বসল। ছেলে জ্বর নিয়ে সারাত জাগল, সকালে উঠে মা ওর জন্যই খিচুড়ি রাঁধল। ছেলে দেখে, "ভালোবাসা মানে শর্ত নেই"। ও শেখে নিজের চাওয়ার আগে অন্যের কথা ভাবতে। বড় হয়ে ও-ই হবে সেই ছেলে যে বউয়ের ছোট ভুল ক্ষমা করে দেবে, বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে।
শেষ কথা মা, আপনি হয়তো ভাবেন আপনি শুধু সংসার সামলাচ্ছেন। আসলে আপনি একটা ভবিষ্যতের "ভালো মানুষ" তৈরি করছেন। আপনার ছেলে আপনার সব কথা শুনবে না, কিন্তু আপনার সব কাজ নকল করবে।
তাই রেগে গিয়ে জিনিস ছুঁড়বেন না। ক্লান্ত হলেও হাসিমুখে থাকুন। কারণ আপনার ছেলে সব দেখছে। শেখাতে হবে না হাতে ধরে। আপনি ঠিক থাকলে, ও ঠিক হয়ে যাবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News