দার্জিলিং ছাড়ুন, এবার ঘুরে আসুন মিরিকের কাছে বংকুলুং—প্রকৃতিপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা

Published : Jun 08, 2026, 05:57 PM IST
Darjeeling

সংক্ষিপ্ত

দার্জিলিং-মিরিকের ভিড়ে ক্লান্ত? নিরিবিলি, মেঘ-পাহাড় আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চান বিনা ভিড়ে? চলে যান মিরিক থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরের বংকুলুং গ্রামে। নাম শোনেননি? থাকুন আদিবাসী হোমস্টেতে, খান দেশি মুরগির ঝোল, দেখুন চা-বাগান আর কমলালেবুর বাগান। এটাই প্রকৃতিপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা।

দার্জিলিং মানে এখন শুধু জ্যাম, হোটেলের লাইন আর ম্যালের ভিড়। মিরিকও আর আগের মতো শান্ত নেই। উইকেন্ড পড়লেই হুড়োহুড়ি। কিন্তু পাহাড় মানেই কি ভিড়? না। মিরিক থেকে ১৫ কিমি দূরে, নেপাল বর্ডারের কাছে লুকিয়ে আছে একটা স্বর্গ – বংকুলুং।

নামটা অচেনা লাগছে তো? থাকারই কথা। এখনও ট্যুরিস্টের পা পড়েনি ঠিক করে। তাই এখানকার আকাশে মেঘ জমে, পাখি ডাকে, আর রাতে শুধু ঝিঁঝিঁর শব্দ। দার্জিলিংয়ের বদলে যদি "প্রকৃতি" খোঁজেন, তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন বংকুলুং।

*বংকুলুং কোথায়? কীভাবে যাবেন?*

বংকুলুং হল দার্জিলিং জেলার একটা ছোট গ্রাম। মিরিক লেক থেকে গাড়িতে মাত্র ৪০ মিনিট। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ৭০ কিমি, ৩ ঘণ্টা লাগে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নেমে মিরিক হয়ে সোজা বংকুলুং। রাস্তা একটু ভাঙা, কিন্তু জার্নিটাই অ্যাডভেঞ্চার।

*বংকুলুং-এ কী দেখবেন? ভিড় নেই, শুধু ভিউ*

এখানে কোনো "সাইটসিইং স্পট" নেই। এখানে পুরো গ্রামটাই একটা ভিউ পয়েন্ট।

*১. কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ*: সকালবেলা হোমস্টের বারান্দায় দাঁড়ালেই সামনে ঘুমিয়ে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। মেঘ সরে গেলেই সোনালি রং ধরে। দার্জিলিং ম্যালের মতো ২০০ জনকে ধাক্কা দিয়ে দেখতে হবে না।

*২. কমলালেবুর বাগান*: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি গেলে গাছ ভর্তি কমলালেবু দেখবেন। বাগানের মালিককে বললেই গাছ থেকে পেড়ে খাওয়াবে। টক-মিষ্টি স্বাদ মুখে লেগে থাকবে।

*৩. চা-বাগান আর পাইন ফরেস্ট*: গ্রামের চারপাশে ধাপে ধাপে চা-বাগান। পায়ে হেঁটে নেমে যান। শ্রমিকদের সাথে গল্প করুন। আর পাইন গাছের জঙ্গলে হাঁটলে মনে হবে আপনি কোনো সিনেমার সেটে।

*৪. আদিবাসী কালচার*: এখানে মূলত সাঁওতাল, রাই সম্প্রদায়ের মানুষ থাকে। ওদের হোমস্টেতে থাকুন। রাতে ওদের সাথে বসে ধামসা-মাদলের তালে নাচুন। দেশি মুরগির ঝোল আর গরম ভাত – অমৃত।

*কোথায় থাকবেন? বংকুলুং হোমস্টে*

বড় হোটেল নেই। যা আছে সব ফ্যামিলি-রান হোমস্টে। ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০ টাকা মাথাপিছু, থাকা-খাওয়া নিয়ে। রুম সাদামাটা, কিন্তু জানলা খুললেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। হোমস্টের দিদিরা নিজের হাতে রান্না করে দেবে। WiFi পাবেন না, নেটওয়ার্কও টুকটাক। কিন্তু এই ডিটক্সই তো দরকার, তাই না?

*কখন যাবেন বেস্ট সময়?*

১. *অক্টোবর-মার্চ*: আকাশ পরিষ্কার, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। কমলালেবুর সিজন। ঠান্ডা ভালো লাগবে।

২. *বর্ষা জুন-সেপ্টেম্বর*: মেঘে ঢাকা গ্রাম। সবুজে সবুজ। যারা মেঘ-ভালোবাসেন তাদের জন্য। তবে রাস্তা পিচ্ছিল।

*২টি জরুরি টিপস*

১. *ক্যাশ নিয়ে যান*: এখানে ATM নেই, UPI-ও চলে না। হোমস্টের টাকা ক্যাশে দিতে হবে।

২. *পাওয়ার ব্যাংক মাস্ট*: লোডশেডিং হয়। চার্জ দিয়ে রাখুন।

*দার্জিলিং বাদ দিয়ে বংকুলুং কেন?*

কারণ দার্জিলিং আপনাকে "দেখায়", আর বংকুলুং আপনাকে "থাকতে দেয়"। এখানে ট্যুরিস্ট স্পটের টিকিট নেই, ফটো তোলার লাইন নেই। আছে শুধু আপনি, পাহাড়, আর নিস্তব্ধতা। যারা মিরিক গিয়ে ফিরে আসেন, তারা আসল মিরিক দেখেনই না। আসল মিরিক লুকিয়ে আছে বংকুলুং-এর ওই চা-বাগানের বাঁকে।

তাই পরেরবার নর্থ বেঙ্গল প্ল্যান করলে দার্জিলিংয়ের হোটেল বুক না করে একবার বংকুলুং-এর হোমস্টে-তে ফোন করুন। কথা দিচ্ছি, ফিরে এসে বলবেন – "এটাই তো খুঁজছিলাম"।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

কর্মরতাদের জন্য মজবুত ও স্টাইলিশ ফ্লোরাল সুঁই-সুতো কানের দুলের ডিজাইন
মাত্র ১০ মিনিটে প্রেসার কুকারেই হবে ঝরঝরে পোলাও, রইল সিক্রেট রেসিপি