রক্তে চর্বি বা ফ্যাট অতিরিক্ত পরিমাণে জমে গেলে তাকে হাই কোলেস্টেরল বলা হয়। এর ফলে রক্তনালীতে ব্লকেজ তৈরি হতে পারে, যা থেকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগ ধরা সম্ভব।
রক্তে অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকাকেই হাই কোলেস্টেরল বলে
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৯ জনেরই লিপিড ইমব্যালান্স বা কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এমনকি যারা রোগা বা যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ক্ষেত্রেও এটা দেখা যায়। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি।
28
উচ্চ LDL কোলেস্টেরলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
রক্তে LDL অর্থাৎ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় তেমন কোনও লক্ষণ ছাড়াই এই সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধে। এখানে উচ্চ LDL কোলেস্টেরলের কয়েকটি লক্ষণ দেওয়া হল।
38
বুকে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে
উচ্চ কোলেস্টেরলের প্রথম লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো বুকে ব্যথা। হার্টের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনীতে প্লাক জমে গেলে এই ব্যথা হয়। এর ফলে বুকে চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হয়। এই ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
48
ত্বকের নিচে হলদে দাগ বা ফোলা অংশ দেখা যায়
অতিরিক্ত LDL কোলেস্টেরল শরীরের টিস্যুতে জমে ত্বকের নিচে হলদে, মোমের মতো ফোলা অংশ তৈরি করে, যাকে 'জ্যান্থোমা' বলে। এগুলি সাধারণত চোখের পাতা, আঙুলের গাঁট, কনুই, হাঁটু এবং নিতম্বে দেখা যায়। এটি উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি স্পষ্ট লক্ষণ।
58
সিঁড়ি ভাঙা বা দ্রুত হাঁটলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে
খারাপ কোলেস্টেরল রক্তনালী সরু করে দেয়। ফলে হার্টকে আরও জোরে রক্ত পাম্প করতে হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের জোগান কমে যায়। এর থেকেই শ্বাসকষ্ট হয়। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, দ্রুত হাঁটা বা চিৎ হয়ে শুলে এই সমস্যা বেশি বোঝা যায়।
68
পায়ে ব্যথা উচ্চ কোলেস্টেরলের আরেকটি লক্ষণ
উচ্চ কোলেস্টেরলের আরেকটি লক্ষণ হলো পায়ে ব্যথা। LDL প্লাক যখন পেরিফেরাল ধমনী, বিশেষ করে ঊরু বা নিতম্বের রক্তনালী আটকে দেয়, তখন এই ব্যথা হয়। এই অবস্থাকে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD) বলা হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
78
উচ্চ LDL-এর কারণে অতিরিক্ত ক্লান্তি আসতে পারে
উচ্চ LDL মাত্রা পেশি এবং বিভিন্ন অঙ্গে পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছতে বাধা দেয়, যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি আসে। এই ক্লান্তি ঘুম বা বিশ্রামের অভাবে হয় না, বরং রোজকার জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মহিলাদের মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
88
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা মাথাব্যথাও একটি লক্ষণ
কোলেস্টেরল মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে মনোযোগ দিতে অসুবিধা, কথা খুঁজে পেতে সমস্যা বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এই অবস্থা ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।