Durga Puja 2026 Holidays: দুর্গাপুজোর ছুটিতে অনেকেই বেড়াতে যান। পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চেনা জায়গার বাইরে অফবিট পর্যটনস্থলই এখন পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করেন। এই প্রতিবেদনে এমনই এক অফবিট জায়গার সন্ধান থাকল।

DID YOU
KNOW
?
কালিম্পঙের আকর্ষণ বার্মিক
উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় শৈলশহর কালিম্পঙের নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বার্মিক। অনেকেই এই অফবিট জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছেন।

West Bengal Tourism: পাহাড়ের এক নিরিবিলি জনপদ। যেখানে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, জানালা খুললেই চোখে পড়বে মেঘে মোড়া পাহাড়, আর ব্যালকনিতে বসে এক কাপ চায়ের সঙ্গে উপভোগ করা যাবে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। এই তো বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজা (Durga Puja 2026) আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন। পুজো মানেই অনেকের বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা। কেউ ছুটে যান দার্জিলিং (Darjeeling), কেউ আবার কালিম্পং (Kalimpong) কিংবা সিকিমের (Sikkim) পথে পাড়ি জমান। কিন্তু চেনা পর্যটন কেন্দ্রের ভিড়, হোটেলের ব্যস্ততা আর যানজটের বাইরে যদি কয়েকটা দিন একান্তে প্রকৃতির সঙ্গে কাটাতে চান, তাহলে এবারের পুজোয় ঘুরে আসতেই পারেন উত্তরবঙ্গের অফবিট পাহাড়ি জনপদ বার্মিক (Barmek) থেকে।

অফবিট পর্যটনস্থল বার্মিক

কালিম্পঙের পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা বার্মিক। চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাহাড়ের গায়ে মেঘের আনাগোনা, দূরে দিগন্তবিস্তৃত পর্বতমালা আর পাহাড়ি জনজীবনের সারল্য। সবমিলিয়ে এই জনপদ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বপ্নের ঠিকানা। এখানে বেড়াতে আসা মানে শুধু কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা নয়, বরং ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতির কোলে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া।পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে অনেকেই চান, ঘরের মধ্যেও যেন প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া যায়। বার্মিকের মতো অফবিট গন্তব্যে সেই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। ঘরের জানালা দিয়ে পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য দেখা, ব্যালকনিতে বসে এক কাপ গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে সবুজ পাহাড় আর জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করা এ যেন শহুরে জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তির অন্য নাম।সন্ধ্যা নামলে পাহাড়ের রূপ বদলে যায়। দিনের আলো মিলিয়ে যাওয়ার পর আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের পাহাড়ের রাতের দৃশ্য এক অন্যরকম মায়া তৈরি করে। নীরব পাহাড়ি পরিবেশ, শীতল হাওয়া আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পর্যটকদের মনে দীর্ঘদিনের জন্য জায়গা করে নিতে পারে।

বার্মিক থেকেই ঘুরে নেওয়া যাবে একাধিক আকর্ষণীয় গন্তব্য

বার্মিকের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কারণ। এখান থেকে কাছাকাছি বেশ কয়েকটি সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। হিমালী পার্ক, জলসা বাংলো, রামধুরা ভিউ পয়েন্টের পাশাপাশি রামধুরা, ইচ্ছেগাঁও ও সিরিশেগাঁওয়ের মতো পাহাড়ি জনপদ পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন। প্রতিটি জায়গার নিজস্ব সৌন্দর্য ও পরিবেশ রয়েছে। বিশেষ করে অফবিট পর্যটন পছন্দ করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এই গ্রামগুলি হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়াও পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরে আসা যায় কালিম্পঙের ডেলো পার্ক, সায়েন্স সিটি, হনুমান মন্দির, বুদ্ধ পার্ক, মর্গ্যান হাউস এবং কালিম্পং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থেকে। লাভা, রিশপ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলিও ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে।

সিল্ক রুট যাত্রার আগেও হতে পারে আদর্শ বিরতি

সিল্ক রুট ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্যও বার্মিক হতে পারে একটি সম্ভাব্য বিরতির ঠিকানা। ইচ্ছেগাঁও বা সিলারিগাঁওয়ের মতো পাহাড়ি গন্তব্যের পাশাপাশি বার্মিকেও যাত্রাপথে এক রাত কাটানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ মিলবে।

কীভাবে পৌঁছবেন বার্মিকে?

নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে ভাড়া করা গাড়ি কিংবা শেয়ার গাড়িতে বার্মিক পৌঁছনো যায়। সাধারণ পরিস্থিতিতে সড়কপথে সময় লাগতে পারে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। তবে পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচল ও আবহাওয়ার উপর যাত্রার সময় নির্ভর করে। বিশেষ করে বর্ষা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় জাতীয় সড়ক ১০ বন্ধ থাকলে লাভা হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগবে। তাই পুজোর ভ্রমণে বেরোনোর আগে রাস্তার পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার খোঁজ নিয়ে যাত্রা শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।পাহাড় ডাকছে, মেঘ অপেক্ষায়! এবার পুজোয় চেনা গন্তব্যের বাইরে গিয়ে আবিষ্কার করুন উত্তরবঙ্গের অচেনা সৌন্দর্য।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।