
খারাপ লাইফস্টাইলের প্রভাব আমাদের পুরো স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। আমাদের কিছু অভ্যাস অজান্তেই কিডনির শত্রু হয়ে উঠছে। যার কারণে কোনও না কোনও ভাবে কিডনির ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় হঠাৎ করে কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয় বা কিডনি ফেইল হয়ে যায়। তাই কিডনির যত্ন নিন।
কিডনির ক্ষতি হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
বাস্তবে কিডনি অকেজো হওয়া বা কিডনির কার্যক্রমে ত্রুটি আমাদের কিছু অভ্যাসের কারণে হতে পারে। এর জন্য আপনাকে আপনার জীবনযাত্রাকে উন্নত রাখতে হবে। একই সাথে কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন যাতে কিডনির স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব না পড়ে।
ব্যথানাশক ওষুধ- যদি আপনি কোনও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই পেন কিলার খান তবে এই অভ্যাস আজই পরিবর্তন করুন। পেন কিলারের ওষুধ কিডনির উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ওভার-দ্যা-কাউন্টার পাওয়া অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ব্যথানাশক ট্যাবলেট কিডনির ক্ষতি করে।
কম জল পান করা- কিডনি শরীরের রক্তকে ফিল্টার করে। যার জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। যারা কম পানি পান করেন তাদের কিডনির উপর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে গরমের দিনগুলিতে আপনি এর কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। এর ফলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আপনাকে দিনে ৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে।
মদ্যপান করা- খুব বেশি মদ্যপান করলে এটি কিডনি এবং লিভারের জন্য বিপজ্জনক। মদ্যপানের ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। যার কারণে কিডনির কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়। বেশি মদ্যপান করলে রক্তচাপও বেড়ে যায় এবং কিডনির ক্ষতি হয়।
মাদক সেবন করা- মাদক সেবন স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। এটি কেবল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় না বরং হৃদরোগও সৃষ্টি করে। বিভিন্ন উপায়ে মাদক সেবন কিডনিরও সরাসরি ক্ষতি করতে পারে। সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্যাডমিয়াম মত বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া যায় যা কিডনিকে ক্ষতি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন- মোটা বিচার্য শরীরের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছে। এর ফলে কিডনিও প্রভাবিত হয়। স্বাস্থ্যকর শরীরের ভর সূচক (BMI) ১৮.৫ এবং ২৪.৯ এর মধ্যে থাকে।
বিশেষ করে আপনার কোমরের আশেপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকা কিডনি, যকৃত, ডায়াবেটিস এবং হৃদয়ের জন্য বিপজ্জনক। অসাস্থ্যকর খাবার- খাবারে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ প্রয়োগ, এমন খাবারগুলো যাতে চর্বি, চিনি, কৃত্রিম রঙ ও স্বাদ এবং নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যেমন সসেজ, কার্বোনেটেড সোফট ড্রিঙ্ক ও প্যাকেজড রুটি এবং মাংস অন্তর্ভুক্ত।
যদি আপনি সঠিকভাবে সম্পূর্ণ ঘুম না নেন, তাহলে এরও কিডনির উপর প্রভাব পড়ে। ঘুমের গুণমান এবং সময় কিডনির অসুখ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে কম ঘুমের কারণে ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অবশ্যই নিতে হবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News