Telangana Village: সাধারণত বিকেল ৫টা বা ৬টার পর চারপাশ অন্ধকার হতে শুরু করে। কিন্তু তেলেঙ্গানার একটি গ্রামে বিকেল ৪টে বাজলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। আকাশে সূর্য থাকলেও রাতের মতো মনে হয়। কোথায় আছে এই গ্রাম? কেনই বা এত তাড়াতাড়ি অন্ধকার হয়ে যায় এখানে?
তেলেঙ্গানার পেড্ডাপল্লী জেলার কোদুরুপাকা গ্রামটি সত্যিই খুব অদ্ভুত। গ্রামটির চারদিকে চারটি বিশাল পাহাড় রয়েছে। বিকেলে এই পাহাড়গুলো সূর্যের আলোকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয়। পাহাড়ের ওপারে অন্য গ্রামে আলো থাকলেও, এই গ্রামটি অন্ধকারে ডুবে যায়।
পামুবান্ডা গুট্টা, গোল্লাগুট্টা, রঙ্গনায়কুলা গুট্টা এবং দেবুনিপল্লী গুট্টা—এই চারটি পাহাড় গ্রামটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে। পাহাড়গুলোর উচ্চতার কারণে সূর্যের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে গ্রামে আলো ঢোকে।
24
বিকেল সাড়ে ৩টে বাজলেই রাত!
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোদুরুপাকা গ্রামে বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যেই অন্ধকার নেমে আসে। সাধারণত এই সময়ে অন্যান্য জায়গায় দিনের আলো থাকে। কিন্তু এই গ্রামে চারপাশের পাহাড়ের ছায়া পড়ায় আলো কমে যায়।
সূর্য ডোবার আগেই চারপাশ রাতের মতো অন্ধকার হয়ে যায়। পাহাড়ের ছায়া পুরো গ্রামকে ঢেকে ফেলে। এই কারণেই মনে হয় যেন গ্রামে বিকেল খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
34
বদলে গেছে গ্রামের মানুষের রুটিন
আলো তাড়াতাড়ি কমে যাওয়ায় কোদুরুপাকা গ্রামের মানুষ নিজেদের কাজ দ্রুত শেষ করে নেন। কৃষক ও বাইরের কর্মীরা অন্ধকার নামার আগেই বাড়ি ফিরে আসেন। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁরা নিজেদের দৈনন্দিন রুটিনও বদলে ফেলেছেন।
পাহাড়ের উচ্চতা এবং অবস্থানের কারণেই এমনটা ঘটে। চারপাশের এই ভৌগোলিক পরিস্থিতির জন্যই কোদুরুপাকা গ্রামে বিকেল বেলায় এত তাড়াতাড়ি আলো কমে যায়।
প্রকৃতির ভৌগোলিক অবস্থা মানুষের জীবনযাত্রাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, কোদুরুপাকা তার সেরা উদাহরণ। চারদিকে উঁচু পাহাড় আর তার ছায়ায় তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসা—এই ব্যাপারটাই গ্রামটিকে সবার থেকে আলাদা করেছে। তবে সব ঋতুতে ঠিক একই সময়ে অন্ধকার নামে না।
অনেকেই ভাবতে পারেন, কিরণ আব্বাভরমের 'ক' সিনেমায় দেখানো গ্রামটিই হয়তো এটি। কিন্তু তা নয়। হয়তো এই গ্রাম থেকেই সিনেমার গল্প অনুপ্রাণিত, তবে সিনেমায় দেখানো কৃষ্ণগিরি গ্রাম আর এটি এক নয়।