স্কুলের হোমওয়ার্ক করতে গিয়ে প্রায় সব পড়ুয়াই ভাবে, 'কে যে এটা আবিষ্কার করেছিল!' চলুন, আজ সেই হোমওয়ার্কের জন্ম-ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক। এর পিছনে রয়েছে এক মজার গল্প।
স্কুলের ঘণ্টা বাজলেই বাড়ি ফেরার তাড়া। কিন্তু বাড়ি ফিরেও রেহাই নেই, শুরু হয় হোমওয়ার্ক। এর শুরুটা কিন্তু প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। কুইন্টিলিয়ান নামে এক শিক্ষাবিদ বিশ্বাস করতেন, বাড়িতে পড়লে পড়ুয়াদের স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
25
শাস্তি দেওয়ার ধারণা থেকে চালু হোমওয়ার্ক?
তবে আধুনিক হোমওয়ার্কের ধারণা আসে ১৯০৫ সালে। ইতালির এক শিক্ষক, রবার্তো নেভিলিস, দুষ্টু ছাত্রদের শাস্তি দিতে হোমওয়ার্ক চালু করেন। পরে আমেরিকার শিক্ষাবিদ হোরেস মানের মতো ব্যক্তিদের চেষ্টায় এটি শাস্তির বদলে পড়াশোনার একটি জরুরি অংশ হয়ে ওঠে।
35
পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য
হোমওয়ার্ক পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে। ক্লাসে শিক্ষকের কথা শুনে সবটা বোঝা গেলেও, নিজে লেখার সময়ই আসল পরীক্ষা হয়। একা বসে অঙ্ক কষা বা প্রশ্নের উত্তর লেখার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে নিজে ভাবার ক্ষমতা, গবেষণা করার মানসিকতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
কোনও বিষয় বুঝতে না পারলে তারা আবার বই খুলে দেখে। এতে নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি হয়। অর্থাৎ, হোমওয়ার্ক হল পড়া মনে রাখার একটি রোজকার অনুশীলন। হোমওয়ার্ক শুধু নম্বর পাওয়ার জন্য নয়, এটি জীবনে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা শেখায়।
55
পড়াশোনার অগ্রগতি
খেলার জন্য কতটা সময় রাখা উচিত বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা—এইসব ছোট থেকেই পড়ুয়ারা শেখে। এর ফলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জন্মায়। পাশাপাশি, বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি বুঝতে পারেন। তাই হোমওয়ার্ক বোঝা না হয়ে যদি পরিমিত ও আকর্ষণীয় হয়, তবে এটি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গড়ার এক দারুণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।