
কলা খেয়ে খোসা ডাস্টবিনে ফেলে দেন? চুলের যত্নে এই অভ্যাসই বদলে ফেলতে পারে আপনার লুক। কলার খোসায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি, ই এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এগুলো চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে, স্ক্যাল্পের শুষ্কতা কমায় আর জট ছাড়াতে সাহায্য করে। চুলের কিউটিকল সিল করে দিয়ে ন্যাচারাল শাইনও ফিরিয়ে আনে।
চুল রুক্ষ আর প্রাণহীন হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো স্ক্যাল্পের আর্দ্রতার অভাব। কলার খোসার ন্যাচারাল অয়েল আর পটাশিয়াম চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে চুল নরম হয় আর জট লাগে কম। ভিটামিন ই চুলের ফলিকল মজবুত করে, ফলে চুল পড়াও কিছুটা কমতে পারে। সিলিকা চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়, যাতে ভেঙে যাওয়া রোধ হয়।
ব্যবহারের পদ্ধতিটা খুব সহজ। পাকা কলার খোসা নিয়ে ভেতরের নরম সাদা অংশটা চামচ দিয়ে চেঁছে নিন। সেটা ব্লেন্ডারে একটু জল বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্ট স্ক্যাল্প থেকে চুলের আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগান। 15-20 মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে কুসুম গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করলেই ফারাক বোঝা যাবে।
চুল বেশি ড্রাই হলে কলার খোসার পেস্টের সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেশাতে পারেন। আর খুশকি থাকলে পেস্টে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করা যায়। কলার খোসা স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা খুশকি কমাতে উপকারী। যাদের ফ্রিজি চুল, তাদের জন্য এটা ন্যাচারাল কন্ডিশনারের মতো কাজ করে।
তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। কলার খোসা ম্যাজিক নয়। এটা হোম রেমেডি হিসেবে চুলের টেক্সচার ভালো করে, কিন্তু জেনেটিক হেয়ার ফল বা সিরিয়াস স্ক্যাল্প ইনফেকশন সারাতে পারে না। ব্যবহারের আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নিন। কারও কারও স্ক্যাল্প সেনসিটিভ হলে অ্যালার্জি বা ইরিটেশন হতে পারে।
চুলের যত্নে কেমিক্যাল প্রোডাক্টের পাশাপাশি এমন ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলে চুল প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যকর ও মজবুত থাকে। পরেরবার কলা খাওয়ার পর খোসাটা ফেলবেন না, বরং চুলের যত্নে কাজে লাগান।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News