
ক্যালেন্ডারে চোখ রাখলেই মনটা কেমন করে ওঠে। গরমের ছুটি! কিন্তু বাইরে বেরোলে ৪০ ডিগ্রির হলকা। এই সময় মন চায় পাহাড়, মেঘ, আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চা। কিন্তু দার্জিলিং, গ্যাংটক মানেই থিকথিকে ভিড় আর আকাশছোঁয়া হোটেল ভাড়া। চিন্তা নেই। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্তিতে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে উত্তরবঙ্গের এই ৫টি ‘অফবিট’ ঠিকানা আপনার জন্য। তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করে। কলকাতা থেকে এক রাতের ট্রেন জার্নি। বাজেটও সাধ্যের মধ্যে।
১. সিটং – কমলালেবুর গ্রাম, কাঞ্চনজঙ্ঘার বারান্দা: কালিম্পং জেলার এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামকে বলে ‘অরেঞ্জ ভিলেজ’। শীতকালে গাছ ভরে থাকে কমলালেবুতে। আর গরমকালে? চারিদিক সবুজ, নির্জন, আর হোমস্টের বারান্দা থেকে ফুল স্ক্রিনে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এখানকার মূল আকর্ষণ লাটপানচার ফরেস্ট, অহলদারা ভিউ পয়েন্ট আর নামথিং পোখরি লেক। পাখি প্রেমীদের স্বর্গ। কীভাবে যাবেন: NJP থেকে শেয়ার গাড়িতে কালিঝোরা হয়ে আপার সিটং, ২.৫ ঘণ্টা। কোথায় থাকবেন: অসংখ্য হোমস্টে। জনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকায় থাকা-খাওয়া। কেন যাবেন: ভিড় নেই, নিরিবিলি। সকালের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলে মন ভরে যাবে।
২. লামাহাটা – মেঘের দেশে পাইনের জঙ্গল: দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৩ কিমি দূরে, কিন্তু দার্জিলিংয়ের কোলাহল এখানে নেই। ৫,৭০০ ফুট উচ্চতায় পাইনের জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট ইকো পার্ক। পার্কের উপর উঠলে একদিকে তিস্তা, অন্যদিকে রঙ্গিত নদীর বাঁক। মাঝে একটা পবিত্র পুকুর। মেঘেরা গা ঘেঁষে চলে যায়। কীভাবে যাবেন: NJP থেকে দার্জিলিংয়ের গাড়িতে লামাহাটা মোড়ে নামুন, ৩ ঘণ্টা। কোথায় থাকবেন: ইকো পার্কের কাছেই ১০-১২টি হোমস্টে। ১৪০০ টাকা জনপ্রতি। কেন যাবেন: একদিনে দার্জিলিং, তিনচুলে, তাকদা ঘুরে আসা যায়। নির্জনতা ও ভিউ দুইই পাবেন।
৩. তাবাকোশি – চা-বাগানে ঘেরা ‘ঘুমন্ত উপত্যকা’: মিরিক থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে রংভং নদীর ধারে এই উপত্যকা। চারপাশে শুধু চা-বাগান আর সবুজ। নদীর জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পাখির ডাক ছাড়া কোনও শব্দ নেই। এখানকার গোপালধারা টি এস্টেট বিশ্ববিখ্যাত। কীভাবে যাবেন: NJP থেকে মিরিক হয়ে তাবাকোশি, ২.৫ ঘণ্টা। কোথায় থাকবেন: রিভারসাইড হোমস্টে বেস্ট। ১৩০০-১৮০০ টাকা। কেন যাবেন: ‘ডু নাথিং’ ভ্যাকেশনের জন্য আদর্শ। মিরিক লেক, পশুপতি মার্কেট কাছেই।
৪. চটকপুর – মেঘের উপরে কাঠের বাড়ি: সোনাদার কাছে সেঞ্চল অভয়ারণ্যের মধ্যে ৭,৮৮৭ ফুট উচ্চতায় মাত্র ১৯টি পরিবারের গ্রাম। এখানে গাড়ির হর্ন ঢোকে না। ওয়াচ টাওয়ার থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউতে কাঞ্চনজঙ্ঘা, দার্জিলিং ও কার্শিয়াং শহর দেখা যায়। রাতে আকাশ ভরে যায় তারায়। কীভাবে যাবেন: NJP থেকে সোনাদা হয়ে ৩ ঘণ্টা। শেষ ৭ কিমি রাস্তা খারাপ, বোলেরো লাগবে। কোথায় থাকবেন: ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের কটেজ ও হোমস্টে। ১৫০০ টাকা। আগে বুকিং মাস্ট। কেন যাবেন: নির্ভেজাল প্রকৃতি ও নিস্তব্ধতা চাইলে। ফরেস্ট এন্ট্রি ফি লাগে।
৫. সামথার – কালিম্পংয়ের ‘মিনি সিকিম’: কালিম্পং শহর থেকে ২২ কিমি দূরে, রেলি নদীর উপরে। একদিকে সিকিমের পাহাড়, অন্যদিকে কালিম্পং। চারপাশে ধাপ চাষ। এখান থেকে সূর্যোদয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ অপার্থিব। অ্যাডভেঞ্চার চাইলে রেলি নদীতে ফিশিং করতে পারেন। কীভাবে যাবেন: NJP থেকে কালিম্পং হয়ে সামথার, ৩.৫ ঘণ্টা। কোথায় থাকবেন: হাতে গোনা ৪-৫টি হোমস্টে। ১২০০ টাকা। কেন যাবেন: অফবিট, সস্তা, এবং দারুণ ভিউ। লাভা, রিশপ একদিনে ঘোরা যায়।
জরুরি টিপস: ১. মে-জুন মাসে গেলেও হালকা শীতের পোশাক নেবেন। রাতে তাপমাত্রা ১৫-এ নামে। ২. NJP থেকে শেয়ার গাড়ি সহজলভ্য, খরচ কম। ৩. হোমস্টে আগে থেকে বুক করুন। ৪. ক্যাশ নিয়ে যাবেন, নেটওয়ার্ক ও ATM-এর সমস্যা থাকে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News