আমের খোসা আবর্জনা হিসেবে ফেলে না দিয়ে এটি গাছের জন্য একটি চমৎকার প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে থাকা পটাশিয়াম, ক্যালশিয়ামের মতো পুষ্টিগুণ গাছের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

গরমকাল মানেই আম। আর আম খাওয়ার পর খোসাটা কী করেন? বেশিরভাগ মানুষই আবর্জনা ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, এই আমের খোসাই গাছের জন্য একটা দারুণ প্রাকৃতিক সার হতে পারে। এতে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো জরুরি পুষ্টিগুণ ভরপুর থাকে, যা গাছের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং বেশি করে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। যদি সঠিক উপায়ে আমের খোসা ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাগানের খরচ যেমন কমবে, তেমনই মাটির গুণমানও অনেক ভালো হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আমের খোসা দিয়ে বানান লিকুইড সার

প্রথমে আমের খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার একটি পাত্রে ২ থেকে ৩ দিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জলটা ছেঁকে নিন এবং সাধারণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন। এই তরল সার গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং গাছের বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে।

কম্পোস্ট সারে আমের খোসা মেশান

আপনি যদি বাড়িতে কম্পোস্ট সার তৈরি করেন, তাহলে তাতে আমের খোসা মেশাতে পারেন। এই খোসা খুব তাড়াতাড়ি পচে যায় এবং কম্পোস্টকে আরও পুষ্টিকর করে তোলে। এই কম্পোস্ট সার মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং গাছকে দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টি জোগায়।

ফুল গাছের জন্য খুব উপকারী

আমের খোসায় থাকা পটাশিয়াম ফুল গাছের জন্য খুব উপকারী। বিশেষ করে গোলাপ, জবা, বেলি বা অন্য যে কোনও ফুল গাছের জন্য এর ব্যবহার দারুণ লাভজনক। নিয়মিত আমের খোসা থেকে তৈরি সার দিলে গাছে অনেক বেশি কুঁড়ি আসে এবং প্রচুর ফুল ফোটে।

মাটির গুণমান ভালো করতে সাহায্য করে

আমের খোসায় প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে। এটি যখন মাটির সঙ্গে মেশে, তখন মাটির গঠন ভালো হয় এবং জল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। এর ফলে গাছের শিকড় সুস্থ থাকে এবং গাছ দ্রুত বাড়তে পারে।

রান্নাঘরের বর্জ্যকে বানান বাগানের সম্পদ

আমের খোসা ব্যবহার করে আপনি রান্নাঘরের বর্জ্যকে একটি দরকারি সম্পদে পরিণত করতে পারেন। এতে শুধু আবর্জনাই কমে না, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতাও কমে। এই পদ্ধতি পরিবেশের জন্য যেমন ভালো, তেমনই গাছও প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টি পায়।