ব্রিটিশরা বহু বছর আমাদের দেশ শাসন করেছে। স্বাধীনতার পর তারা নিজেদের দেশে ফেরার সময় এদেশ থেকে বেশ কিছু জিনিস নিয়ে যায়। এর মধ্যে ভারতের বিখ্যাত কিছু মশলাও রয়েছে।
মধ্যযুগে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে ভারত ছিল এক বিস্ময়ের জগৎ। এখানকার সুগন্ধি মশলার জন্যই ফরাসি, ইংরেজ ও ডাচদের মধ্যে তুমুল বাণিজ্য যুদ্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত এই মশলার লোভেই তারা আমাদের দেশকে উপনিবেশে পরিণত করে। ভারতীয় রান্নার স্বাদ ও গন্ধে মুগ্ধ হয়ে ১৯৪৭ সালে দেশ ছাড়ার সময় ব্রিটিশরা এখানকার বেশ কিছু মশলা নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আজও ইউরোপীয় রান্নায় তারা এসব মশলা প্রচুর ব্যবহার করে।
26
১. জিরে
বিশ্বের মোট জিরে উৎপাদনের ৭০ শতাংশই আমাদের ভারতে হয়। ব্রিটিশরা তাদের দেশের বিভিন্ন মাংসের পদে এই জিরে ব্যবহার করে। এছাড়া ফ্রান্সের কিছু ঐতিহ্যবাহী রুটি এবং লিডেন চিজ তৈরিতেও জিরে কাজে লাগে।
36
২. দারুচিনি
আমাদের দেশ থেকে ব্রিটিশদের নিয়ে যাওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মশলা হলো দারুচিনি। ব্রিটিশরা কাবাব, কারি এবং কেক বেক করার সময় এটি প্রচুর ব্যবহার করে। এছাড়া কফি বা হট চকোলেটের মতো গরম পানীয়তে দারুণ সুগন্ধ আনতে তারা দারুচিনি মেশায়।
আমাদের ঐতিহ্যবাহী 'হলুদ দুধ' এখন স্টারবাকসের মতো গ্লোবাল ক্যাফেগুলোতে 'টারমারিক লাটে' নামে বিশ্ব কাঁপাচ্ছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হলুদের ঔষধি গুণ এখন পশ্চিমা দেশগুলোও বুঝতে পেরেছে। ব্রিটিশরা মাছের কারি, স্যুপ, পোলাও এবং আচারে সুন্দর রং ও স্বাদের জন্য হলুদ ব্যবহার করে।
56
৪. গোলমরিচ
একসময় গোলমরিচ এতটাই দামি ছিল যে মানুষ একে মুদ্রা বা বন্ধকি জিনিস হিসেবে ব্যবহার করত। ডাচ ভাষায় একটি প্রবাদ আছে, 'গোলমরিচের মতো দামি'। বর্তমানে বিশ্বের মশলা বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশই গোলমরিচের দখলে। ব্রিটিশরা স্কোন, হটপট এবং মাংসের পদে এটি অবশ্যই ব্যবহার করে।
66
৫. ধনে গুঁড়ো:
ভারতে কাটানো ২০০ বছরে ব্রিটিশরা ধনে গুঁড়োর প্রেমে পড়ে যায়। স্থানীয়দের রান্নার ঝাল কমাতে তারা গরম মশলার সঙ্গে ধনে গুঁড়ো মিশিয়ে দারুণ সুগন্ধ তৈরি করত। বর্তমানে লন্ডনের দামি রেস্তোরাঁগুলোতে ডেজার্টে সাইট্রাস ফ্লেভার আনতে এবং বেলজিয়ান হুইট বিয়ার তৈরিতে ধনে গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়।