
রোজকার ট্রাফিক, অফিসের চাপ আর ফ্ল্যাটের চার দেওয়ালের মধ্যে দমবন্ধ লাগছে? মন চাইছে একটু নির্জন প্রকৃতি, যেখানে শুধু গাছ আর নিস্তব্ধতা? তাহলে এবার ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ঝাড়গ্রামের লোধাশুলির জঙ্গলে। কলকাতা থেকে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরে, এই জঙ্গলই হতে পারে আপনার সেরা উইকেন্ড ডেস্টিনেশন।
লোধাশুলি নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজার হাজার শাল, সেগুন আর পিয়াল গাছের সারি। যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর সবুজ। দিনের বেলায় গাছের ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে মাটিতে, তৈরি হয় এক মায়াবী আলো-ছায়ার খেলা। আর রাত নামলেই বদলে যায় পুরো ছবিটা। নিস্তব্ধ জঙ্গলে শুরু হয় ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক, দূর থেকে ভেসে আসে শিয়ালের ডাক। শহরের কোলাহলে যারা ক্লান্ত, তাদের জন্য এই নিস্তব্ধতাই সবচেয়ে বড় ওষুধ।
এখানে থাকার অভিজ্ঞতাও অনন্য। জঙ্গলের মাঝেই রয়েছে বন দফতরের প্রকৃতি ভবন ও বেশ কিছু ইকো-রিসোর্ট। কংক্রিটের জঙ্গল নয়, মাটির গন্ধমাখা কটেজ, সামনে বিশাল প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যেবেলা বনফায়ারের আলোয় বসে আদিবাসী মানুষদের গল্প শোনা, সকালে জঙ্গল সাফারি, এই সব মিলিয়ে লোধাশুলিতে রাত্রিযাপন সত্যিই রোমাঞ্চকর।
তবে একটা শর্ত আছে। এখানে আসতে হলে আপনাকে নিস্তব্ধতা প্রিয় হতে হবে। এটা কোনও লাউড পিকনিক স্পট নয়। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, পাখির ডাক শুনতে চান, শাল পাতার শব্দে হারিয়ে যেতে চান, লোধাশুলি তাদের জন্যই। সপ্তাহান্তে একদিনের জন্য হলেও ঘুরে আসুন, মন ভালো হয়ে যাবে।
কিভাবে যাবেন?
হাওড়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম যেতে পারেন। ভোরের ট্রেন ধরলে দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। সেখান থেকে টোটো করে চলে আসতে পারেন লোধাশুলির জঙ্গলে। এ ছাড়া সড়কপথেও আসা যায়। ধর্মতলা থেকে রোজই বাস ছাড়ে। বোম্বে রোড ধরে খড়্গপুর হয়ে ঝাড়গ্রাম পৌঁছনো যায় সহজেই। রাস্তা এবং দুধারের প্রাকৃতিক শোভা অতীব মনোরম। নিজের গাড়ি থাকলে তো কথাই নেই।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News