
Travel Tips: মরুভূমি মানে কি শুধুই হলুদ বালি আর উট? এই ধারণা ভাঙতে চলেছে তামিলনাড়ু। কারণ এখানে আছে ভারতের একমাত্র লাল বালির মরুভূমি – থেরি কাডু।
‘থেরি’ তামিল শব্দ, মানে লাল বালির টিলা। আর ‘কাডু’ মানে জঙ্গল বা প্রান্তর। নাম শুনেই বোঝা যায়, এখানে গাছ নেই, চারদিকে শুধু ঢেউ খেলানো লাল বালি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মঙ্গল গ্রহে চলে এসেছেন।
রাজ্য: তামিলনাড়ু জেলা: তুতিকোরিন / Thoothukudi শহর: তিরুচেন্দুর থেকে ১৫ কিমি, কুডানকুলাম পরমাণু কেন্দ্র থেকে ২০ কিমি দূরে।
চেন্নাই থেকে ৬০০ কিমি, মাদুরাই থেকে ১৫০ কিমি। ম্যাপে দেখলে বঙ্গোপসাগরের একদম ধারে ১২,০০০ একর জায়গা জুড়ে এই লাল টিলা। তিনটে বড় থেরি আছে – কুডানকুলাম থেরি, সাত্তানকুলাম থেরি, আর ইতামোজি থেরি।
বালি লাল কেন? থর তো হলুদ!
জিওলজিস্টরা বলছেন, এর পিছনে ১০০% বিজ্ঞান। থর মরুভূমি তৈরি হয়েছে নদীর পলি আর কোয়ার্টজ বালি দিয়ে, তাই হলুদ। কচ্ছের রণ সাদা কারণ ওটা নুনের স্তর।
কিন্তু থেরি কাডুর বালিতে মিশে আছে ৬০% আয়রন অক্সাইড, মানে মরচে। হাজার হাজার বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের নোনা হাওয়া, বৃষ্টি আর কড়া রোদে বালির লোহা অক্সিডাইজড হয়ে লাল হয়ে গেছে।
সাথে আছে গার্নেট, ইলমেনাইট, রুটাইল – এই সব ভারী মিনারেল। তাই বালি চকচক করে, হাতে নিলে লাল গুঁড়ো লেগে যায়।
দেখতে কেমন? সাহারা না মঙ্গল?
কল্পনা করুন – নীল আকাশ, নিচে ৫০ ফুট উঁচু লাল বালির টিলা। হাওয়া দিলেই টিলার মাথা থেকে লাল ধুলো উড়ছে। কোথাও সবুজ নেই, জল নেই। শুধু লাল আর লাল।
সকাল-বিকাল রোদ পড়লে বালি আরও টকটকে হয়। রাতে চাঁদের আলোয় গোলাপি লাগে। ড্রোন শট নিলে বোঝাই যায় না এটা ভারত। এই জন্যই পরিচালক সন্তোষ সিভান ‘অশোকা’ সিনেমায় শাহরুখ-করিনার গান এখানে শুট করেছিলেন। মণি রত্নমের ‘রাবণ’-এর অনেক সিনও এখানকার।
যাবেন কীভাবে? কখন যাবেন?
নিকটতম স্টেশন: তিরুচেন্দুর, ১৫ কিমি। তিরুচেন্দুর মুরুগান মন্দির খুব ফেমাস। পুজো দিয়ে টোটো ভাড়া করে চলে যান।
নিকটতম এয়ারপোর্ট: তুতিকোরিন, ৫০ কিমি। চেন্নাই থেকে ফ্লাইট আছে।
সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। দিনে ৩০°C, রাতে ২০°C। মার্চের পর ৪৫°C গরম, পা পুড়ে যাবে।
থাকার জায়গা: তিরুচেন্দুরে হোটেল আছে। থেরি-তে থাকার ব্যবস্থা নেই। সানরাইজ-সানসেট দেখে ফিরে আসুন।
সাবধানতা:
১. জল মাস্ট: ধারে-কাছে দোকান নেই। ২ লিটার জল নিয়ে ঢুকুন।
২. গাইড নিন: লোকাল লোক ছাড়া ঢুকবেন না। টিলায় উঠলে রাস্তা গুলিয়ে যায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না।
৩. জুতো: স্নিকার্স পরুন। খালি পায়ে বালি গরম, চামড়া উঠে যাবে।
৪. অনুমতি: কুডানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রের কাছে কিছু এলাকা রেস্ট্রিক্টেড। CISF ধরে ফেলতে পারে। লোকাল গাইডকে জিজ্ঞেস করে ঢুকুন।
বিপদ আছে। লাল বালিতে ইলমেনাইট থাকে, যা দিয়ে টাইটানিয়াম বানায়। বেআইনি খনি মাফিয়ারা রাতের বেলা ট্রাকে করে বালি চুরি করছে। সাথে নারকেল গাছ লাগিয়ে গ্রিন কভার বাড়ছে, টিলা ঢেকে যাচ্ছে।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এটাকে ‘ন্যাশনাল জিওলজিক্যাল মনুমেন্ট’ ঘোষণা করতে বলেছে। না হলে ২০ বছর পর এই লাল মরুভূমি আর থাকবে না।
শেষ কথা:
রাজস্থান-গুজরাট দেখা হয়ে গেছে? এবার ব্যাগ গোছান তামিলনাড়ুর জন্য। কারণ থর-কচ্ছ সবাই দেখেছে, কিন্তু ভারতের ‘মঙ্গল গ্রহ’ দেখেছে হাতে গোনা লোক।
ছবি তুলুন, রিল বানান, কিন্তু বালি পকেটে ভরবেন না। প্রকৃতির এই লাল ক্যানভাস আমাদেরই বাঁচাতে হবে।
না হলে পরের জেনারেশন গুগলেই শুধু ছবি দেখবে, আর বলবে – “ইশ, ভারতে নাকি একটা লাল মরুভূমি ছিল!”
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News