
ভিটামিন B12 কে বলে "কোবালামিন"। এটা শরীরের তিনটে বড় কাজ সামলায়। প্রথমত, B12 ছাড়া লাল রক্তকণিকা ঠিকমতো তৈরি হয় না। রক্তকণিকা ছোট-বড় হয়ে ভেঙে গেলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছায় না, তাই ক্লান্ত লাগে। দ্বিতীয়ত, স্নায়ুর চারপাশে মায়েলিন নামের একটা কভার থাকে। B12 সেই কভার বানায়। কভার নষ্ট হলে হাত-পা ঝিঁঝিঁ করে, অবশ লাগে। তৃতীয়ত, মস্তিষ্কের কেমিক্যাল ঠিক রাখে। তাই মেজাজ, স্মৃতি, ফোকাস - সবকিছুর পিছনে B12 কাজ করে।
B12 কমলে শরীর প্রথমে সিগন্যাল দেয় ক্লান্তি দিয়ে। রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে উঠতে ইচ্ছা করবে না। একটু সিঁড়ি ভাঙলেই হাঁপ ধরে যাবে। এরপর শুরু হবে হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা। পায়ের পাতায় পিঁপড়ে হাঁটার মতো বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি হবে। জিভেও সমস্যা দেখা দেবে - জিভ টকটকে লাল হয়ে যাবে, ঘা হবে, খাবারের স্বাদ পাবেন না। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে গ্লসাইটিস। সাথে ব্যালেন্স নষ্ট হবে, অন্ধকারে হাঁটতে ভয় লাগবে। মস্তিষ্কেও এফেক্ট পড়বে। সামান্য কথা ভুলে যাবেন, ফোকাস করতে পারবেন না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাবে, চোখের সাদা অংশ হলুদ লাগবে। একদম শেষ স্টেজে বুক ধড়ফড় আর শ্বাসকষ্ট শুরু হবে।
যারা পুরোপুরি নিরামিষ খান তাদের রিস্ক সবচেয়ে বেশি। কারণ B12 মূলত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ আর দুগ্ধজাত খাবারে পাওয়া যায়। গাছ-পালায় B12 প্রায় নেই বললেই চলে। আবার যাদের বয়স ৫০ পেরিয়েছে তাদের পেটের অ্যাসিড কমে যায়। অ্যাসিড কমলে খাবার থেকে B12 শোষণ হয় না। ডায়াবেটিসের Metformin বা গ্যাসের Omeprazole জাতীয় ওষুধ যারা দীর্ঘদিন খান তাদেরও B12 শোষণ ব্লক হয়ে যায়। এছাড়া IBS, Crohn's বা গ্যাস্ট্রিক অপারেশন হয়েছে যাদের তাদের পেট B12 নিতে পারে না।
B12 পেতে হলে প্রাণিজ খাবার খেতেই হবে। মুরগি, মাছ, ডিম আর কলিজা হলো B12-এর রাজা। মাত্র ১০ গ্রাম মুরগির কলিজাতেই ৭ দিনের B12 চাহিদা মিটে যায়। যারা আমিষ খান না তারা রোজ এক গ্লাস দুধ বা এক বাটি দই খান। দুগ্ধজাত খাবারে মোটামুটি B12 থাকে। ভেগানরা কিছু ফর্টিফায়েড খাবার খেতে পারেন যেমন কর্নফ্লেক্স বা সোয়া মিল্ক। লেবেলে "Vitamin B12 Added" লেখা দেখে কিনবেন। এছাড়া "নিউট্রিশনাল ইস্ট" নামের একটা ইস্ট পাওয়া যায় যার স্বাদ পনিরের মতো আর B12 ভর্তি। খাবারে ঘাটতি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে Methylcobalamin ট্যাবলেট বা ইনজেকশন নিতে পারেন।
B12-এর ঘাটতি একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি করে দেয়। তাই ওপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে ২-৩টা মিলে গেলেই দেরি না করে "Serum B12 Test" করিয়ে নিন। রিপোর্টে ২০০ pg/mL-এর নিচে লেভেল গেলে বুঝবেন ঘাটতি আছে। মনে রাখবেন, B12 নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সময় মতো ধরা পড়লে ওষুধ আর খাবার দিয়েই ঠিক হয়ে যায়।
নোট: আমি ডাক্তার নই। এই লেখা শুধু তথ্যের জন্য। নিজে থেকে ওষুধ শুরু করবেন না। সমস্যা থাকলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে রক্ত পরীক্ষা করুন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News