
আমরা অনেকেই রোজ ঘুম থেকে উঠে বিছানার চাদর টানটান করি, বালিশ গুছিয়ে রাখি। ভাবি, বিছানা পরিষ্কার থাকলেই শোয়ার ঘর পরিষ্কার। কিন্তু সত্যিটা হল, বিছানা হল ধুলো, ঘামের, মৃত কোষের আঁতুড়ঘর। শুধু চাদর পাল্টালে বা ঝেড়ে নিলে এই অদৃশ্য ময়লা যায় না। আর তার থেকেই হয় অ্যালার্জি, নাক বন্ধ, চুলকানি, এমনকি ঘুমের ব্যাঘাতও। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজকার গোছানোর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন শোয়ার ঘরের ডিপ ক্লিনিং জরুরি। খুব বেশি সময়ও লাগবে না, মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে এই রুটিনটা মেনে চলুন।
১. বিছানা থেকে শুরু করুন, কিন্তু শুধু চাদর নয়:
সপ্তাহে একদিন চাদর, বালিশের ওয়্যার, কোলবালিশের কভার গরম জলে কেচে নিন। তোষক বা গদি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ভালো করে টেনে নিন। যদি ভ্যাকুয়াম না থাকে, রোদে ২ ঘণ্টা রেখে দিন। বালিশগুলোও রোদে দিন। এতে ধুলোর মাইট মরে যাবে।
২. খাটের তলা আর কোণা ভুলবেন না:
ঘরের সবচেয়ে বেশি ধুলো জমে খাটের তলায়, আলমারির পেছনে আর জানলার কোণে। এই জায়গাগুলো রোজ ঝাঁট পড়ে না। সপ্তাহে একদিন ভেজা কাপড় বা মোপ দিয়ে এই কোণাগুলো মুছে নিন। খাটের তলা থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বের করে ফেলুন, হাওয়া চলাচল ভালো হবে।
৩. পর্দা, জানলা আর আয়না:
বেডরুমের পর্দা প্রচুর ধুলো টানে। সপ্তাহে একদিন পর্দা ঝেড়ে নিন বা হালকা ভ্যাকুয়াম করুন। জানলার গ্রিল, স্লাইডিং-এর খাঁজ ভেজা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন। আয়না বা ড্রেসিং টেবিল কাঁচ পরিষ্কার করলে ঘরটা মুহূর্তে ঝকঝকে লাগবে।
৪. ইলেকট্রনিক জিনিস ও আসবাব:
এসি, ফ্যানের ব্লেড, টিউবলাইটের ওপর ধুলো জমে ঘরেই ঘুরতে থাকে। সপ্তাহে একদিন শুকনো কাপড় দিয়ে ফ্যানের ব্লেড মুছুন। সাইড টেবিল, আলমারির মাথা, সুইচবোর্ড - এই জায়গাগুলো জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে মুছে নিন।
৫. সুগন্ধ ও হাওয়া:
পরিষ্কারের পর ১০ মিনিট জানলা খুলে হাওয়া খেলতে দিন। বিছানায় ল্যাভেন্ডার বা লেমনগ্রাস রুম স্প্রে হালকা করে ছড়িয়ে দিতে পারেন। ভালো ঘুমের জন্য এটি খুব কার্যকর।এই ছোট অভ্যাসটা করলে শুধু ঘরই নয়, আপনার ঘুমের মান, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাও অনেক কমবে। মনে রাখবেন, পরিষ্কার শোয়ার ঘর মানেই শান্তির ঘুম।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News