
‘মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভেতর, মন খারাপের দিস্তা, মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা’ - তিতলি ছবির সেই গানটা যেন এই রাস্তার জন্যই লেখা। করোনেশন ব্রিজ পেরিয়ে কালিঝোরা, তিস্তা গেট পার করে যখন পাহাড়ের গা বেয়ে গাড়ি উঠতে শুরু করল, তখনই বুঝলাম, শহরকে অনেকটা পিছনে ফেলে এসেছি। গন্তব্য কালিম্পং জেলার খাসমহল অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম ইয়ং মাকুম। পাহাড়ের বুকের এমন এক বাহারি গ্রাম, যেখানে মনে হয় মেঘ পিওনেরও যেন একটা নিজস্ব পোস্ট অফিস আছে।
কালিম্পংয়ের পাহাড়ে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে পৌঁছলে মনে হয় মানচিত্রের কোনও বিন্দুতে নয়, বরং সময়ের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি। ইয়ং মাকুম তেমনই এক পাহাড়ি ঠিকানা। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৬০ কিমি, কালিম্পং শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে। কিন্তু ভিড় নেই, হর্ন নেই, হোটেলের লাইন নেই। আছে শুধু পাইন বনের ফাঁক দিয়ে ভেসে আসা মেঘ, কমলালেবুর বাগান আর কয়েক ঘর লেপচা পরিবারের হাসিমুখ। এখানে সকাল হয় মুরগির ডাকে আর কুয়াশার চাদর সরিয়ে। হোমস্টের জানালা খুললেই সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা, নিচে তিস্তার রূপোলি ফিতে।
ইয়ং মাকুমে দেখার কিছু নেই, আসলে সবটাই দেখার। এখানকার প্রধান অ্যাক্টিভিটি হল চুপচাপ বসে থাকা। কোনও সাইটসিয়িংয়ের তাড়া নেই। খাসমহল ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যান, পথে দেখা মিলবে নাম না জানা পাহাড়ি ফুল, প্রজাপতি। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে গোটা গ্রাম কমলালেবুতে ভরে যায়। গ্রাম থেকে ১০ মিনিট হাঁটলেই একটা ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে তিস্তা আর করোনেশন ব্রিজের অসাধারণ ভিউ পাওয়া যায়।
এখানে বিলাসবহুল রিসর্ট পাবেন না। আছে ৩-৪টি সুন্দর হোমস্টে। জনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকায় থাকা-খাওয়া। সকালে গরম ভাত, ডাল, ডিমের কারি, রাতে রুটি-চিকেন, আর সঙ্গে গরম গরম চা। হোমস্টের আন্টিরাই রান্না করেন, একেবারে ঘরোয়া স্বাদ।
শিলিগুড়ি বা NJP থেকে শেয়ার গাড়িতে কালিম্পং, সেখান থেকে ছোট গাড়ি রিজার্ভ করে ইয়ং মাকুম। যদি ভিড় এড়িয়ে পাহাড়কে একান্তে নিজের মতো করে পেতে চান, তাহলে ইয়ং মাকুম আপনার জন্যই।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News