
Durga Puja 2026: তিথি অনুযায়ী এখনও দেবী পক্ষ শুরু হয়নি। কিন্তু রবিবারই বীরভূমের ২ নম্বর ব্লকের চাঁদপাড়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো। এদিন সকালে বোধনের ঘটের আগমনের মাধ্যমে পুজো শুরু হল। এদিন থেকে দুর্গাপুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে চণ্ডীপাঠ। বোধনের ঘট পুজোর পাশাপাশি এদিন পাঁঠাবলিও হয়। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতেও পাঁঠাবলির রীতি আছে। সপ্তমীর দিন, সন্ধিপুজোর সময় এবং নবমী পুজোর সময়ও পাঁঠাবলি হয়। পুজোর সময় প্রতিদিনই ভোগ হিসেবে থাকে লুচি। অষ্টমীর দিন অন্ন খাওয়ার নিয়ম নেই। পুজো উপলক্ষে কদমা তৈরি হয়। এবারও পুজোর সব প্রস্তুতি সারা।
বীরভূমের এই গ্রামে যে বাড়িগুলিতে দুর্গাপুজো হয়, তার অন্যতম চৌধুরী পরিবার। এই পরিবারেরই শরিক ঘোষ পরিবার। এই পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ জানিয়েছেন, 'আমাদের এই পুজো প্রায় ৪০০ বছর ধরে চলছে। গ্রামের ১১টি বাড়িতে পুজো হয়। এই গ্রামে চৌধুরী ও মজুমদার পরিবার জমিদার ছিল। এই দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও আছে। মোট ১১টি বাড়িতে দুর্গাপুজো হলেও, নয়টি বাড়িতে প্রতিমা আসে। বাকি দুই বাড়িতে ঘটে পুজো হয়। আজ আমাদের বোধনের ঘট এল। নবমীর ১৫ দিন আগে বোধন হয়। সেই রীতি মেনেই আজ বোধন হল। আজ শুভ ভালো তিথি। ২০ বছরের মধ্যে এমন তিথি আর আসেনি। এই কারণ আজ বোধন অত্যন্ত শুভ।'
সুদীপ্তবাবু আরও জানিয়েছেন, 'আমাদের বাড়িতে দুর্গা প্রতিমার চালি কাটা। পুরো চালি নেই। কোনও একবার পুজোর সময় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকেই পুরো চালি করা হয় না। কাটা চালিতেই পুজো হয়ে আসছে। মা দুর্গা দশভূজা হলেও, আমাদের পুজোয় মায়ের চার হাত। বাড়ির মন্দিরেই প্রতিমা তৈরি হয়। রথের দিন থেকেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। আমাদের শাক্ত মতে পুজো হয়। গ্রামের সবাই মিলে একসঙ্গে পুজো করি।' পুজোর আচার থেকে ভোগ, সব পরিবারের সদস্যদের পাশপাশি গ্রামবাসীরাও হাত লাগান। সবাই মিলে পুজোর কাজ ও আনন্দ ভাগ করে নেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।