মহিষাসুর নয়, দুর্গমাসুরকে বধ করেই দেবী হয়েছিলেন ‘দুর্গা’। কীভাবে এই নামকরণ হল? আর ‘দ’ ‘উ’ ‘র’ ‘গ’ ‘আ’ - এই পাঁচটি অক্ষরের মধ্যে লুকিয়ে আছে কোন মহাজাগতিক রহস্য? জানুন পুরাণের অজানা কাহিনি।

আমরা সবাই জানি মহিষাসুর বধের কাহিনি। কিন্তু জানেন কি, মহিষাসুরেরও অনেক আগে দেবী আরেক ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করেছিলেন, আর সেখান থেকেই তাঁর নাম হয় ‘দুর্গা’?

কে ছিলেন দুর্গমাসুর?

পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গমাসুর ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করে বর পেয়েছিল যে, চার বেদ তার অধীনে থাকবে। বর পেয়েই সে বেদ চুরি করে পাতালে লুকিয়ে রাখে। বেদ হারিয়ে ঋষিরা সমস্ত বৈদিক মন্ত্র ভুলে যান। বন্ধ হয়ে যায় যজ্ঞ। যজ্ঞ বন্ধ হওয়ায় হবি না পেয়ে দেবতারা দুর্বল হয়ে পড়েন। শুরু হয় শতবর্ষব্যাপী খরা। না খেতে পেয়ে মানুষ, জীবজন্তু মারা যেতে থাকে। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালে নেমে আসে মহাসংকট।

তখন দেবতারা একসঙ্গে আদি পরাশক্তির শরণ নেন। ভক্তদের কান্নায় দেবীর চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে। সেই অশ্রু থেকেই সৃষ্টি হয় শত চোখ, তাই তিনি শতাক্ষী। এরপর তিনি নিজের শরীর থেকে শাক, সবজি, ফলমূল সৃষ্টি করে ক্ষুধার্ত পৃথিবীর প্রাণ বাঁচান। তখন তিনি পরিচিত হন শাকম্ভরী নামে।

তারপর শুরু হয় দুর্গমাসুরের সঙ্গে দেবীর মহাযুদ্ধ। টানা যুদ্ধের পর দেবী ত্রিশূল দিয়ে দুর্গমাসুরের বুক চিরে তাকে বধ করেন। সমগ্র সৃষ্টিকে এই ‘দুর্গতি’ বা চরম সংকট থেকে রক্ষা করেন বলেই দেবতারা তাঁর নাম দেন ‘দুর্গা’।

‘দুর্গা’ নামের প্রতিটি অক্ষরের অর্থ কী?

দেবীভাগবত পুরাণ ও তন্ত্র মতে, ‘দুর্গা’ নামের প্রতিটি অক্ষর এক একটি শক্তির প্রতীক:

- দ = দৈত্যনাশ: ‘দ’ অক্ষরের অর্থ দৈত্য বা অসুরকে বিনাশ করা। যিনি সমস্ত আসুরিক শক্তিকে নাশ করেন। - উ = উৎপাতনাশ: ‘উ’ অক্ষরের অর্থ বিঘ্ন বা উৎপাত নাশ করা। যিনি ভক্তের জীবনের সমস্ত বাধা দূর করেন। - র = রোগনাশ: ‘র’ অক্ষরের অর্থ রোগ নাশ করা। যিনি শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে মুক্তি দেন। - গ = পাপনাশ: ‘গ’ অক্ষরের অর্থ পাপ নাশ করা। যিনি ভক্তের সমস্ত পাপ হরণ করেন। - আ = ভয় ও শত্রু নাশ: ‘আ’ অক্ষরের অর্থ ভয় ও শত্রু নাশ। যিনি ভয়, শত্রু ও অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করেন।

আবার অন্য মতে, ‘দুর্গ’ শব্দের অর্থ যাকে জয় করা কঠিন। যিনি দুর্গের মতো অজেয়, তিনিই দুর্গা। তিনিই দুর্গতিনাশিনী - যিনি জীবনের সব দুর্গতি বা কষ্ট থেকে আমাদের উদ্ধার করেন।