
Rakhi Purnima:: ভাই-বোনের বন্ধনের উৎসব হলো রাখি বন্ধন। শ্রাবণ মাস এলেই মনটা কেমন যেন করে। দূরে থাকা ভাইবোনের কথা মনে পড়ে। কারণ শ্রাবণ পূর্ণিমা মানেই রাখি। একটা সুতো, যার মধ্যে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, সুরক্ষা আর সারাজীবনের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু জানেন কি, নিয়ম না মেনে রাখি বাঁধলে তার শুভ ফল নাও পাওয়া যেতে পারে? তাই রাখি কেনার আগে আর বাঁধার আগে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখা খুব জরুরি।
গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবছর পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৭ অগস্ট (Thursday) সকাল ৯টা ১১ মিনিটে। আর এই তিথি শেষ হবে পরদিন অর্থাৎ ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, রাখি বাঁধার জন্য ২৮ অগস্ট দিনটিই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই দিনে রাখি বাঁধার শুভ সময়গুলো হল:
সকালের শ্রেষ্ঠ সময়: ২৮ অগস্ট ভোর ৫টা ৫৭ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে রাখি বাঁধা সবচেয়ে শুভ। দুপুরের বিশেষ সময়: সকালে সময় না পেলে, দুপুর ১টা ৩২ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ০৭ মিনিটের মধ্যেও রাখি বাঁধতে পারেন।
তবে যেকোনো সময় রাখি বাঁধলেই হবে না। পঞ্জিকা বলছে রাখি বাঁধার সবচেয়ে শুভ সময় হল দিনের অপরাহ্নকাল। এই সময় রাখি বাঁধা সবচেয়ে ভালো।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভদ্রাকাল। শাস্ত্রে বলা হয় ভদ্রায় রাখি বাঁধা একদমই উচিত নয়। এতে সম্পর্কের মধ্যে বাধা আসতে পারে। তাই ভদ্রা শেষ হওয়ার পরই রাখি বাঁধা শুরু করুন।
বাজারে এখন কত রকমের রাখি। কিন্তু সব রাখি ভাইয়ের হাতে শোভা পায় না। প্রথমত কালো রঙের রাখি এড়িয়ে চলুন। জ্যোতিষ মতে কালো রং অশুভ। এটা ভাইয়ের জীবনে বাধা ডেকে আনতে পারে। তার বদলে লাল, হলুদ বা সোনালি রঙের রাখি বাঁধুন, এগুলো মাঙ্গলিক।
দ্বিতীয়ত আজকাল খুব ফ্যাশনেবল ধারালো বা কাঁটাযুক্ত রাখি পাওয়া যায়। দেখতে সুন্দর হলেও এগুলো হাতে লাগতে পারে। শাস্ত্র মতে ধারালো জিনিস সম্পর্কে ফাটল ধরায়। তাই নরম সুতো বা মোলায়েম ডিজাইনের রাখিই বেছে নিন।
আর তৃতীয়ত LED লাইট বা গান বাজে এমন খুব দামি ইলেকট্রনিক রাখি। এগুলো দেখতে আকর্ষণীয় হলেও রাখির আসল উদ্দেশ্য নষ্ট করে দেয়। রাখি মানে হল মন্ত্র আর প্রার্থনা। তাই জাঁকজমক নয়, মন দিয়ে কেনা একটা সাধারণ রাখিই সবচেয়ে পবিত্র।
রাখি বাঁধানোর সময় ভাইকে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসান। প্রথমে কপালে চন্দনের তিলক দিন, তারপর ডান হাতে রাখি বাঁধুন। তারপর মিষ্টি খাওয়ান আর উপহার দিন। রাখি বাঁধার সময় মনে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করুন।
রাখি শুধু একটা উৎসব নয়, এটা একটা অনুভূতি। নিয়ম মেনে শুভ সময়ে মন থেকে বাঁধা একটা রাখি সারা বছরের জন্য ভাই-বোনের বন্ধনকে আরও শক্ত করে। তাই তাড়াহুড়ো নয়, একটু সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিন।