বাঙালির অপেক্ষা শেষ হতে চলল! ২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই দিনেই শেষ হচ্ছে পিতৃপক্ষ, শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী, গঙ্গার ঘাটে ঘাটে পিতৃতর্পণ - মহালয়া মানেই পুজোর আগমনী সুর। জানুন ২০২৬ সালের মহালয়ার তিথি, তর্পণের শুভ মুহূর্ত ও দেবীপক্ষের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট।
পুজো আসছে! আর পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয় মহালয়া দিয়েই। ২০২৬ সালে মহালয়া একটু দেরিতে পড়েছে। মহালয়ার এই বিশেষ দিনটিতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে, এবং শুরু হয় দেবীপক্ষ। আবার ভিন্ন মতে, মহালয়াকে পিতৃলোক হিসাবেই মনে করা হয়। ব্রহ্মার নির্দেশেই নাকি এই মহামিলনক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল। এই সময় পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকে মানুষ। এমনকি শাস্ত্র বলছে, হিন্দুদের পালনীয় যে পঞ্চ মহাযজ্ঞের বিধান রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম পিতৃযজ্ঞ। এর মাধ্যমে পিতৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জল দান করা হয়।
*মহালয়া ২০২৬ কবে?*
২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। বাংলা পঞ্জিকা মতে ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি সর্বপিতৃ অমাবস্যা নামেও পরিচিত।
এই দিন থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার পরদিন ১১ অক্টোবর, রবিবার থেকে শুরু হবে দেবীপক্ষ। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই শুরু হবে দুর্গাপুজোর মূল পর্ব।
*২০২৬-এর দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট:*
- মহালয়া: ১০ অক্টোবর, শনিবার
• চতুর্থী পড়ছে ১৪ অক্টোবর, বুধবার। বাংলা ২৬ আশ্বিন।
• পঞ্চমী পড়ছে ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। বাংলা ২৭ আশ্বিন।
• ষষ্ঠী পড়ছে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার। বাংলা ২৮ আশ্বিন।
• সপ্তমী পড়ছে দু’দিন। ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর, শনি এবং রবিবার। বাংলা ২৯ এবং ৩০ আশ্বিন।
• অষ্টমী পড়ছে ১৯ অক্টোবর, সোমবার। বাংলা ১ কার্তিক।
• নবমী পড়ছে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার। বাংলা ২ কার্তিক।
• বিজয়া দশমী পড়ছে ২১ অক্টোবর, বুধবার। বাংলা ৩ কার্তিক।
*তর্পণের শুভ সময় ও আচারবিধি:*
মহালয়া মানে পিতৃপক্ষের অবসান। এই ১৫ দিন ধরে পূর্বপুরুষরা মর্ত্যে আসেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই মহালয়ার দিন তাঁদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। তিথি: অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে, থাকবে ১০ অক্টোবর রাত ৯টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত।
*তর্পণের সেরা সময়:*
শাস্ত্র মতে তর্পণ সবসময় দিনের বেলায় করতে হয়। ২০২৬ সালে তর্পণের সবচেয়ে শুভ সময় হলো সকাল ১১টা ২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে কুতুপ মুহূর্ত থাকবে সকাল ১১টা ৪৫ থেকে দুপুর ১২টা ৩১ পর্যন্ত।
*এই দিন কী করবেন, কী করবেন না:*
১. ভোরে স্নান সেরে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে দিন শুরু করুন। পারলে গঙ্গায় গিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তিল-জল দিয়ে তর্পণ করুন।
২. এই দিন নিরামিষ আহার করুন।
৩. মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন হওয়ায় এই দিন কোনো শুভ কাজ, বড় কেনাকাটা বা গৃহপ্রবেশ না করাই ভালো।
৪. এই দিন চুল-নখ কাটা, কারও সঙ্গে ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. এই দিন থেকেই অনেক বাড়িতে দেবীর চক্ষুদান হয়।


