
Durand Cup 2026 Final: ভারতীয় ফুটবলের প্রবাদপ্রতিম ফুটবলার ও কোচ প্রয়াত প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা কথা নিয়ে আজও গড়ের মাঠে আলোচনা চলে। ‘পিকে’ একবার বলেছিলেন, ‘ডাঁটা চচ্চড়ির মশলা দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা যায় না।’ নিজের দল সম্পর্কেই তিনি সে কথা বলেছিলেন। কারণ, দলে তারকা ফুটবলারের অভাব ছিল। কিন্তু রবিবার ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC vs Mohun Bagan Super Giant) প্রধান কোচ অ্যান্টনিও লোপেজ হাবাস (Antonio López Habas) প্রমাণ করে দিলেন, একজন পাকা রাঁধুনি যে সবজি, মাছ-মাংস-ডিম বা মশলাই পান না কেন, তা দিয়েই এমন রান্না করে দিতে পারেন যা খেয়ে সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন।
এদিন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ দেখে বেশিরভাগ সমর্থকই হতাশ হয়েছিলেন। কারণ, প্রথম একাদশে মাত্র দু'জন বিদেশি ফুটবলারকে রেখেছিলেন হাবাস। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি কোনও প্রকৃত স্ট্রাইকারকেই প্রথম একাদশে রাখেননি। ফলে কে গোল করবেন, সেটাই ভেবে উঠতে পারছিলেন না ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, এবারের ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের মতোই ফাইনালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হেরে যাবে প্রিয় দল। কিন্তু ম্যাচ ১০ মিনিট গড়াতেই পরিস্থিতি বদলে গেল। এই প্রথম একাদশ নিয়েই আক্রমণের ঢেউয়ে সবুজ-মেরুন পালতোলা নৌকা ডুবিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। ১০ মিনিটে প্রথম গোল করেন বিপীন সিং। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ান এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। ২২ মিনিটের মধ্যে ম্যাচের ফল ৩-০ হয়ে যায়। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এডমুন্ড। তখনই খেলার ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। সম্প্রতি কোনও কলকাতা ডার্বি এত একপেশে হয়নি। ৩৩ মিনিটে মনবীর সিং ব্যবধান কমালেও, ৪৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এডমুন্ড।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন হাবাস। কিন্তু বয়সের কারণ দেখিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কারা। এবারের ডুরান্ড কাপ চলাকালীন সবুজ-মেরুন শিবির থেকে হাবাসের বয়স নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছিল। জবাব দেওয়ার উপযুক্ত মঞ্চ খুঁজছিলেন স্প্যানিশ কোচ। রবিবার সেই মঞ্চ পেয়ে তিনি নিজের ‘অওকাত’ বুঝিয়ে দিলেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।