Durand Cup 2026 Final: যুবভারতী যেন আক্ষরিক অর্থেই লাল-হলুদময়। অনবদ্য ফুটবলে বাজিমাৎ করল ইস্টবেঙ্গল (Durand Cup 2026 Final)। কার্যত, মোহনবাগান ডিফেন্সকে তছনছ করে চার গোল দিলেন মহম্মদ রশিদরা। ডিফেন্স থেকে মাঝমাঠ এবং আক্রমণ, সমস্ত বিভাগে সবুজ মেরুনকে টেক্কা দিয়েছে লাল হলুদ ব্রিগেড। আরও ভালো করে বলতে গেলে, মোহনবাগান রক্ষণভাগ পুরো দাঁড়িয়ে গেছিল এই ম্যাচে। আনোয়ার আলি, লালচুংনুঙ্গা এবং ড্যানিয়েলরা ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছেন। জিকসন, জয় গুপ্তা এবং প্রভসুখান সিং গিলরা যেন এই ম্যাচটা জিততেই মাঠে নামেন। তবে বিপিন সিং এবং এডমুন্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলই মোহনবাগান বধের অন্যতম কারণ। শেষপর্যন্ত, ৪-১ গোলে ডার্বি জয় ইস্টবেঙ্গলের। সেইসঙ্গেই, মোহনবাগানকে দুরমুশ করে ডুরান্ড ট্রফি ছিনিয়ে নিল লাল হলুদ ব্রিগেড। মাঠে ফুল ফোটাল ইস্টবেঙ্গল। হ্যাটট্রিক করলেন এডমুন্ড। অন্য একটি গোল এল বিপিন সিং-এর পা থেকে (Mohun Bagan East Bengal Derby)।
ঐতিহ্যবাহী মেগা ফুটবল টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপের ফাইনালে রবিবার, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হয় মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল। নিঃসন্দেহে এই প্রতিযোগিতার জৌলুস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় কলকাতা ডার্বি। কারণ, ভারত তথা এশিয়ার অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ফুটবল যুদ্ধ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখা গেল ডুরান্ড ফাইনালের মঞ্চে। শুরু থেকেই জমে ওঠে এই ম্যাচ। খেলার ঌ মিনিটে, বাঁ-প্রান্ত দিয়ে সামীর জেলকোভিচের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে একটুর জন্য মিস করেন লিস্টন কোলাসো। কিন্তু খুব দ্রুত আঘাত ফিরিয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। খেলার ১১ মিনিটে এবং ১২ মিনিটে, পরপর দুই গোল দেয় লাল হলুদ ব্রিগেড। প্রথমটি করেন বিপিন সিং এবং দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে অবদান রাখেন এডমুন্ড।
তবে লড়াইতে ফেরার চেষ্টা করে বাগান শিবিরও। খেলার ২০ মিনিটে, লিস্টন কোলাসোর ফ্রিকিক দুরন্ত সেভ করেন লাল হলুদ গোলকিপার প্রভসুখান সিং গিল। তবে এই ম্যাচে যেন মোহনবাগানের ডিফেন্স নিয়ে রীতিমতো ছিনিমিনি খেলল ইস্টবেঙ্গল। ঠিক ২২ মিনিটের মাথায়, ফের গোল ইস্টবেঙ্গলের। এবারও সেই এডমুন্ড এবং খেলায় আরও বড় ব্যবধানে লিড নিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ম্যাচের ৩৩ মিনিটে, কিছুটা হলেও খেলায় ফিরে আসে মোহনবাগান। সায়ন ব্যানার্জির পাস থেকে মনবীর সিং-এর বুদ্ধিদীপ্ত গোলের সুবাদে অক্সিজেন পায় সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তবে লাল হলুদের গতির কাছে ফের পরাস্ত হল মোহনবাগান। খেলার ৪৪ মিনিটে, আবারও গোল ইস্টবেঙ্গলের এবং সেইসঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকটিও পূরণ করলেন এডমুন্ড। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৪-১ ফলাফল নিয়ে।
Durand Cup 2026: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণ! মেগা ম্যাচে মুখোমুখি মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল
তবে দ্বিতীয়ার্ধে হলুদ কার্ড দেখেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড এবং মোহনবাগানের অভিষেক টেকচাম সিং। বলা চলে, ডার্বির উত্তেজনার প্রভাব পড়ল মাঠের মধ্যেও। এরপর মোহনবাগান দলে তিনটি পরিবর্তন আসে। আপুইয়ার জায়গায় মাঠে আসেন দীপক টাংরি, অনিরুদ্ধ থাপার পরিবর্তে কিয়ান নাসিরি এবং লিস্টন কোলাসোর বদলে মাঠে নামেন সাহাল আবদুল সামাদ। অন্যদিকে, একটি ভালো সেভ করেন মোহনবাগান গোলকিপার ভিশাল কেইথ। পাশাপাশি লাল হলুদ ব্রিগেডেও দুটি বদল আসে। ড্যানিয়েল এবং এডমুন্ড উঠে যান। মাঠে আসেন জেসিন টিকে এবং মহম্মদ আসিফ।
এরপর ফের আরেকটি পরিবর্তন আসে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে। ৭৩ মিনিটে, মনবীরের জায়গায় খেলতে নামেন ছাংতে। কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনও গোল আসেনি। সবথেকে বড় বিষয় এই ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে বাগান শিবির। কয়েকটি পজিটিভ মুভ তৈরি হলেও তা থেকে গোল আসেনি। তাছাড়া সঠিকভাবে খেলা তৈরিও করতে পারেনি তারা এবং বল কন্ট্রোলও ছিল না। ফলে, যা হওয়ার তাই হয়েছে। এই ম্যাচে মোহনবাগানের ডিফেন্স কার্যত, পুরোপুরি ফেল। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে একদমই ভালো ফুটবল উপহার দিতে পারল না মোহনবাগান। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, হাবাসের মস্তিষ্কের কাছে পরাজিত হলেন পানাজিওটিস ডিলম্পেরিস। অবশেষে ৪-১ গোলে ডার্বি জয় ইস্টবেঙ্গলের। মোহনবাগানকে দুরমুশ করে ডুরান্ড ট্রফি ছিনিয়ে নিল লাল হলুদ ব্রিগেড এবং মধুর বদলা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।