
2026 World U20 Championships: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন তারকা হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ে রুপো পেলেন ১৯ বছর বয়সি আশিস যাদব (Ashish Yadav)। ঠিক এক দশক আগে এই প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রথম পুরুষ জ্যাভলিন থ্রোয়ার হিসেবে পদক জেতেন পরবর্তীকালে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। তিনি সেবার সোনা জিতেছিলেন। এবার সোনা জিততে না পারলেও, রুপো পেলেন আশিস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) ওরেগনে (Oregon) অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে আশিসের সেরা থ্রো ছিল ৭৪.০৯ মিটার। এই থ্রোয়ের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জান-হেনড্রিক হেইমান্স ৮০.৫০ মিটার থ্রো করে সোনা জেতেন। ডমিনিকার অ্যাডিসন জেমস ৭৩.৮৯ মিটার নিয়ে পান।
আশিসের এই রুপো তাঁকে বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ে পদকজয়ী দ্বিতীয় ভারতীয় করে তুলেছে। এর আগে ২০১৬ সালে পোল্যান্ডের (Poland) বাইডগশ্চে (Bydgoszcz) সোনা জিতেছিলেন নীরজ। এবার ফাইনালে শুরুটা অবশ্য আশানুরূপ হয়নি আশিসের। প্রথম প্রচেষ্টায় ৬৯.৯৬ মিটার ছোড়ার পর দ্বিতীয় থ্রোয়ে ফাউল করেন তিনি। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যান এই ভারতীয় জ্যাভলিন থ্রোয়ার। তবে তৃতীয় প্রচেষ্টাতেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন আশিস। জ্যাভলিন থ্রো করেন ৭৪.০৯ মিটার। এর ফলে উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। এরপর তাঁর বাকি তিনটি থ্রো ছিল ৭২.৩১, ৭০.৬২ ও ৬৭.৯৮ মিটার। শেষ পর্যন্ত পিছনে থাকা কোনও প্রতিযোগীই তাঁকে টপকে যাওয়ার মতো দূরত্বে জ্যাভলিন থ্রো করতে পারেননি।
আশিসের এই পারফরম্যান্স তাঁর ব্যক্তিগত ও চলতি মরসুমের সেরা ৭৪.৪৯ মিটার-এর থেকে সামান্য কম। তবে জুনিয়র পর্যায়ে কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক জয়ের জন্য সেটিই যথেষ্ট ছিল। যোগ্যতা পর্বের পারফরম্যান্সের পর আশিসের পদক জয় অবশ্য খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। গ্রুপ ‘এ’-তে ৬৯.৮৭ মিটার ছুড়ে শীর্ষে ছিলেন তিনি এবং সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সেরা পারফরম্যান্স নিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। তাঁর ওপরে ছিলেন হেইমান্স, যিনি গ্রুপ ‘বি’-তে ৭৬.০২ মিটার ছুড়ে সবার সেরা হন। যোগ্যতা পর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইনালে ওঠার নির্ধারিত ৭২.৫০ মিটারের গণ্ডি পেরোতে পেরেছিলেন একমাত্র হেইমান্সই। ফাইনালেও শুরু থেকেই সোনার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অ্যাথলিট। প্রথম প্রচেষ্টায় ৭৬.৯২ মিটার এবং দ্বিতীয়টিতে ৭৬.৪০ মিটার ছুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে বড় ব্যবধান তৈরি করেন তিনি। তৃতীয় রাউন্ডে ফাউল করলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন হেইমান্স। শেষ রাউন্ডে ৮০.৫০ মিটারের দুর্দান্ত থ্রো করে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। ফলে আশিসকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ফাইনালে ভারতের আরেক প্রতিযোগী টি ধরণীধরনও (T Dharanidharan) ছিলেন। গ্রুপ ‘বি’-তে ৬৮.০৭ মিটার ছুড়ে পঞ্চম হয়ে শেষ তথা ১২-তম কোয়ালিফায়ার হিসেবে ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। ফাইনালে অবশ্য নিজের পারফরম্যান্স অনেকটাই উন্নত করেন ধরণীধরন। পঞ্চম রাউন্ডে ৭২.৩৫ মিটার ছুড়ে শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ স্থানে প্রতিযোগিতা শেষ করেন তিনি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।