
Soman Rana Gold Medal: ছিলেন বক্সার। সেনাবাহিনীর (Indian Army) সদস্য হিসেবে দেশের সেবাও করতেন। কিন্তু ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) নিয়ন্ত্রণরেখায় (LoC) হাবিলদার সোমান রানার জীবন চিরতরে বদলে যায়। ২/৮ গোর্খা রাইফেলসের (2/8 Gorkha Rifles) হয়ে টহলদারি চালানোর সময় এক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তাঁর হাঁটুর নীচের অংশ কেটে ফেলতে হয়। সেই দুর্ঘটনায় জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রতিভাবান অপেশাদার বক্সার হিসেবে তাঁর সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। প্রায় দুই দশক পর শনিবার স্কটল্যান্ডের (Scotland) গ্লাসগোয় (Glasgow) স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে ৪৩ বছর বয়সি এই সেনা থেকে ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠা মানুষটি ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক প্রত্যাবর্তনের গল্প সম্পূর্ণ করেন। ১৩.৪০ মিটার দূরে শট পাট থ্রো করে তিনি চলতি কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) পুরুষদের এফ৫৭ শট পাটে সোনা জয় করেন। বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের পর এটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বিহারের গয়া জেলার এক সাধারণ কৃষক পরিবারে বাহাদুর রানা ও মায়া দেবীর ঘরে জন্ম সোমানের। ২০০১ সালে তিনি গোর্খা রাইফেলসে সিপাহী হিসেবে যোগ দেন। অসাধারণ শারীরিক শক্তি ও ক্ষিপ্রতার কারণে খুব দ্রুতই তিনি ইউনিটের বক্সিং দলে জায়গা করে নেন এবং সেনাবাহিনী ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। ভারতীয় বক্সিংয়ে তাঁর হুক পাঞ্চ ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। তাঁর নাম শুনলেই প্রতিপক্ষ সতর্ক হয়ে যেত। বিজেন্দর সিং ও সি এ কুট্টাপ্পার মতো বক্সারদের সমসাময়িক ছিলেন সোমান। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পাঁচ বছর পর ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর বক্সিং কেরিয়ার কার্যত থেমে যায়। তাঁকে পুণের আর্টিফিশিয়াল লিম্ব সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তরুণ এই সেনা সদস্যের সামনে তখন ছিল জীবনে ফেরার কঠিন সংগ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ক্রীড়াবিদের কেরিয়ারই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সেনাবাহিনীতে অর্জিত কঠোর শৃঙ্খলা ও অদম্য মানসিকতা সোমান রানার লড়াইয়ের ইচ্ছাকে বাঁচিয়ে রাখে।
India dominates the podium!🥇🥈
Congratulations to Soman Rana and Shubham Juyal for winning the gold and silver, respectively, in the Men's F57 Shot Put at #CWG2026.
India's first-ever gold and a double podium in this event. What a proud moment! 🇮🇳 pic.twitter.com/Jv5GIyabt8— Piyush Goyal (@PiyushGoyal) August 1, 2026
সোমানের জীবনের মোড় ঘোরে এক দশকেরও বেশি সময় পরে। ২০১৭ সালে পুণে সফরের সময় তিনি কোচ রাকেশ সিং রাওয়াতের অধীনে আর্মি প্যারালিম্পিক নোডে যোগ দেন। ৩৪ বছর বয়সে বসে শট পাট (Seated Shot Put) ইভেন্টে নাম লেখান সোমান। বক্সিং থেকে অর্জিত বিস্ফোরণধর্মী ঊর্ধ্বাঙ্গের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি এফ৫৭ বিভাগের কারিগরি দিকগুলি দ্রুত আয়ত্ত করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর অধ্যবসায়ের ফল মিলেছে কমনওয়েলথ গেমসে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।