
Cricket Rules Change: চলতি বছরের ১ অক্টোবর বদলে যাচ্ছে ক্রিকেট। নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (Marylebone Cricket Club)। ২০২২ সালে শেষবার ক্রিকেটের নিয়মে বদল আনা হয়েছিল। এবার ফের ক্রিকেটের নিয়মে বদল আনা হচ্ছে। এই নিয়ম বদলের ক্ষেত্রে দু'টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথম উদ্দেশ্য হল আধুনিক যুগের বাস্তবতার সঙ্গে যাতে ক্রিকেট খাপ খাইয়ে নিতে পারে তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সারা বিশ্বের দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেটের নতুন নিয়ম জারি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সবার কাছেই যাতে ক্রিকেট পৌঁছে যায় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, সেই ব্যবস্থা করছে এমসিসি। এখন পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের ক্রিকেটও অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই কারণেই নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
এমসিসি ক্রিকেটের মোট ৭৩টি নিয়মে বদল আনতে চলেছে। এর মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিয়েই ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনা চলছে। ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে যে সব ভুল নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়মগুলিতে বদল আনা হচ্ছে। ক্রিকেটে যাতে ভারসাম্য আসে এবং কোনও দলের সঙ্গে অন্যায় না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে এমসিসি।
এতদিন পুরুষদের সিনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেট, মহিলাদের ক্রিকেট এবং জুনিয়র ক্রিকেট খেলায় বলের আকার আলাদা ছিল। জুনিয়র ক্রিকেটের তুলনায় মহিলাদের ক্রিকেটের বলের আকার ছোট এবং হাল্কা ছিল। এবার সেই নিয়ম বদলে যাচ্ছে। পুরুষদের সিনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটে বলের আকার, ওজনে বদল আসছে না। তবে জুনিয়র ও মহিলা ক্রিকেটে বলের ক্ষেত্রে বদল আসছে।
জুনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটে আগেই ল্যামিনেটেড বা টাইপ ডি ব্যাটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এবার সিনিয়র ক্রিকেটেও এই ধরনের ব্যাটের অনুমতি দেওয়া হতে চলেছে। ক্রিকেট ব্যাটের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে, তা সামাল দেওয়ার জন্যই এই নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। তিন টুকরো কাঠ দিয়ে তৈরি হয় এই ধরনের ব্যাট। এমসিসি-র মতে, এই ব্যাট ব্যবহার করলে আলাদা কোনও সুবিধা পাওয়া যাবে না।
এতদিন টেস্ট ক্রিকেট বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে একাধিক বল বাকি থাকলেও, সেই অবস্থাতেই সে দিনের মতো খেলা শেষ করে দেওয়া হত। এবার এই নিয়মে বদল আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও, যতগুলি বল বাকি থাকবে সেগুলি সেদিনই করতে হবে।
অক্টোবর থেকে ব্যাটাররা ছুটতে শুরু করার পরেও রান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা নেবেন না আম্পায়াররা। তবে যদি বোঝা যায় ব্যাটাররা ইচ্ছাকৃতভাবে রান নিলেন না, তাহলে ফিল্ডিং করা দল ঠিক করবে, পরের বলে কোন ব্যাটার স্ট্রাইক নেবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ফিল্ডার বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে গেলে, ক্যাচ নেওয়ার সময় শূন্যে থেকে একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। তারপর ক্যাচ নিতে হলে সীমানার মধ্যে থাকতে হবে। না হলে বাউন্ডারি দেওয়া হবে।
ওভার-থ্রোয়ের নিয়ম স্পষ্ট করে দিচ্ছে এমসিসি। রান আটকানোর জন্য বা রান আউট করার জন্য স্টাম্পের দিকে ছোড়া বলের ক্ষেত্রেই ওভার-থ্রো গণ্য হবে। মিসফিল্ডিং ওভার-থ্রো হিসেবে গণ্য হবে না।
এবার থেকে কোনও ফিল্ডারের হাতে চলে গেলে বা মাঠে নিশ্চল অবস্থায় পড়ে থাকলে 'ডেড বল' বলা হবে। এতদিন এ বিষয়ে সংশয়, ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এবার আর সেসব থাকছে না। নির্দিষ্ট নিয়ম চালু হচ্ছে।
এবার থেকে বোলারদের রান-আপের সময় যদি কোনও উইকেটকিপারের গ্লাভস স্টাম্পের সামনে থাকলেও কোনও ব্যবস্থা নেবেন না আম্পায়াররা। তবে বোলারের হাত থেকে বল বেরিয়ে যাওয়ার পর আর উইকেটের সামনে গ্লাভস থাকা চলবে না।
কোনও ব্যাটার শট খেলার পর যদি শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পেরে স্টাম্পের উপর পড়ে যান, তাহলে হিট উইকেট হবে। তবে যদি কোনও ব্যাটার ফিল্ডারের ধাক্কায় স্টাম্পের উপর পড়ে যান, তাহলে আউট দেওয়া হবে না। ফিল্ডারের ধাক্কা ইচ্ছাকৃত কি না, তা অবশ্য দেখতে হবে। ব্যাটারের হাত থেকে গ্লাভস, হেমলেট, প্যাট, ব্যাট ছিটকে গিয়ে স্টাম্পে লাগলে আর হিট উইকেট দেওয়া হবে না।
এবার থেকে উইকেটকিপার ও ফিল্ডারদের শুধু বল স্পর্শ করলেই হবে না, রান আউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে বলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। ক্যাচ নেওয়ার সময়েও বলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। না হলে ক্যাচ গণ্য হবে না।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।