
বিরাট কোহলির ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের খবর আবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। অনেকেই বলছেন, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপই নাকি তাঁর শেষ টুর্নামেন্ট। এমনকি, জিও হটস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। এরপরই তিনি ৫০ ওভারের ফরম্যাটকে বিদায় জানাবেন। তবে এটাকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ভাবার আগে কয়েকটা জরুরি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। ২০২৬ সালের মে মাসে, আইসিসি একটি খবর প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে মাঠে নামতে বিরাট পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি তখন বলেছিলেন, “যতদিন খেলছি, আমি টানা ক্রিকেট খেলে যেতে চাই। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে খেলাটা সবসময় স্পেশাল।"
বিরাট আরও জানান, ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রস্তুতির দিকেই তিনি এখন সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন। ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি এবং ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর, আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি এখন শুধু ওয়ানডে ম্যাচই খেলছেন। তাই তাঁর ক্যারিয়ারে এখন ওয়ানডে ফরম্যাটের গুরুত্ব অনেক বেশি। এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করা হয়। সেখানেও বিরাটের নাম রয়েছে। এই সিরিজ শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। এর থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায়, ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় বিরাট কোহলি এখনও শক্তভাবে টিকে আছেন।
গত কয়েক মাস ধরেই ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে বিরাটের চিন্তাভাবনার দিকে সবার নজর রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁর কথা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তিনি ওই বিশ্বকাপে খেলতে কতটা আগ্রহী। অন্যদিকে, '২০২৭ বিশ্বকাপের পর নিশ্চিতভাবে অবসর নেব'—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিনি করেছেন বলে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি। তাই তিনি অবসরের তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন, এমনটা বলা একেবারেই ঠিক হবে না। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় দলের ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা এখনও দলে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন।
ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। এরপর শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধেও ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। এই সব কটি ম্যাচকেই ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরাটের বর্তমান পরিকল্পনা বুঝতে গেলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায়। তার আগে ভারত বেশ কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। সেই ম্যাচগুলোতে বিরাটের পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের গতিপথ ঠিক করে দেবে। তবে এগুলো সবই ভবিষ্যতের বিষয়, তাই এখনই তাঁর অবসরের কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।
২০০৮ সালে, বিরাট কোহলির ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর তিনি ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলেও তিনি ছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকান বিরাট। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২৩ বিশ্বকাপেও তিনি ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন। ২০২৩ বিশ্বকাপে তিনি 'প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট' নির্বাচিত হন। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই, ২০২৭ বিশ্বকাপেও তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের জন্য কতটা জরুরি হতে পারে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। নির্বাচকদের পরিকল্পনা, ফিটনেস এবং দলের প্রয়োজনের মতো অনেকগুলো বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করে। আপাতত এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে, বিরাট ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ২০২৬-২৭ মরশুমের ভারতীয় ওয়ানডে দলেও তিনি রয়েছেন। তাই 'বিরাট অবসরের তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছেন'—এমন খবরকে চূড়ান্ত সত্যি হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনও মানে নেই। বরং পুরো বিষয়টিকে ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে দেখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।