
ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট কোহলির একটি বড় রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল কোহলির দখলে। ২০১৩ সালে, জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন কোহলি। মান্ধানা ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগ মিলিয়ে ভারতের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির মালিক হন।
কোহলি ৫২ বলে যা করেছিলেন, মান্ধানা তা ৫০ বলেই করে দেখান। অর্থাৎ, ভারতের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডে কোহলিকে পেছনে ফেলে দিলেন তিনি। সেই মুহূর্তে এটিই ছিল ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।
একজন মহিলা ক্রিকেটার পুরুষদের আরও একটি রেকর্ড ভেঙেছেন শুনলে অবাক হবেন। তিনি আবারও স্মৃতি মান্ধানা। ২০২৫ সালের মহিলা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ৫,০০০ ওয়ানডে রান পূর্ণ করেন তিনি। এর জন্য তিনি খেলেছেন মাত্র ১১২টি ইনিংস। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম ৫,০০০ রানের রেকর্ডটি ছিল কোহলির (১১৪ ইনিংস)। ১১২ ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভারতের দ্রুততম ব্যাটার হন মান্ধানা।
বিশ্ব ক্রিকেটে তার চেয়ে কম ইনিংসে ৫,০০০ রান করেছেন কেবল বাবর আজম এবং হাশিম আমলা। অর্থাৎ, ভারতের রেকর্ডে কোহলিকে টপকে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব রেকর্ডের তালিকাতেও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মান্ধানা।
পুরুষদের ক্রিকেটে ক্রিস গেইলের নাম শুনলেই ছক্কা আর ঝোড়ো সেঞ্চুরির কথা মনে পড়ে। কিন্তু গেইলের একটি বড় টি-টোয়েন্টি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এক নারী ক্রিকেটার। ২০১০ সালের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডিয়ান্ড্রা ডটিন মাত্র ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করেন। তার আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল। ডটিন ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
সেই ইনিংসে ৯টি ছক্কা ও ৫টি চার মারেন ডটিন। ৪৫ বলে ১১২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। গেইলের চেয়ে ১২ বল কম খেলেই এই অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি নিজের নামে করে নেন ডটিন। ২০১০ সালে গড়া এই রেকর্ডটি তখন নারী-পুরুষ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা রেকর্ড ছিল।
ক্রিকেটের রেকর্ড মানেই শুধু ব্যাটিং নয়। বোলিংয়েও পুরুষদের রেকর্ড ভেঙেছেন এক মহিলা ক্রিকেটার। মালয়েশিয়ার মাস এলিসা ২০১৯ সালে চীনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। এর আগে ২০১২ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস। তখন নারী-পুরুষ মিলিয়ে সেটিই ছিল সেরা বোলিং ফিগার। মাস এলিসা ৬/৩ ফিগার নিয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
ম্যাচটিতে চিন মাত্র ৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। মাস এলিসার এই ৬/৩ বোলিং ফিগার তখন নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে।
নোট : এই রেকর্ডটি পরে অন্য বোলাররা ভেঙেছেন। তবে ২০১৯ সালে এলিসা যখন রেকর্ডটি গড়েন, তখন সেটিই ছিল সেরা।
এই তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ নামটি সম্ভবত লরা কার্দোসো। ব্রাজিলের এই মহিলা ক্রিকেটার ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে, লেসোথোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস গড়েন।
তার করা ৩ ওভারে:
৯ উইকেট — ৪ রান!
এর আগে নারী-পুরুষ মিলিয়ে সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৮/৭। ২০২৫ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে ভুটানের সোনম ইয়েশে ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। লরা এক ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেন।
লরা ব্রাজিলের প্রথম ৯টি উইকেটই নেন, যার মধ্যে একটি হ্যাটট্রিকও ছিল। লেসোথোর শেষ উইকেটটি নেন তার সতীর্থ মারিয়ান্নে আর্তুর, তাই লরা ১০ উইকেট পাননি। তবে ৯/৪ ফিগার নিয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি তিনি নিজের করে নেন।
২০১০ সালে সচিন তেন্ডুলকার যখন ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন, তখন সেটি বিশ্ব ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড হিসেবে উদযাপিত হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সচিনের ১৩ বছর আগেই এক মহিলা ক্রিকেটার ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্ডা ক্লার্ক অপরাজিত ২২৯ রান করেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। ১৫৫ বলের ইনিংসে ২২টি চার মেরেছিলেন ক্লার্ক।
সচিনের আগেই... ২২৯!
২০১০ সালে সচিন তেন্ডুলকার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০* রান করে পুরুষদের ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির গৌরব অর্জন করেন। কিন্তু সামগ্রিক ওয়ানডে ইতিহাসে এই মাইলফলক প্রথম ছুঁয়েছিলেন বেলিন্ডা ক্লার্ক। ২০১৪ সালে রোহিত শর্মা ২৬৪ রান করার আগ পর্যন্ত ক্লার্কের ২২৯ রানই ছিল ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। পুরুষদের ক্রিকেটের জনপ্রিয় রেকর্ডগুলির পেছনেও নারীদের ইতিহাস গড়ার গল্প লুকিয়ে আছে। মান্ধানা, ডটিন, মাস এলিসা বা লরা কার্দোসোদের মতো ক্রিকেটাররাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।