
হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান
শনিবার এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে আট উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেল ইংল্যান্ড। ফলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জার মুখে পড়ল পাকিস্তান। এজবাস্টনে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খেলেও, শেষপর্যন্ত অনায়াসে জয় তুলে নেয় জো রুটের দল।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তলানিতে পাকিস্তান
টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পরেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। ষষ্ঠ স্থানেই রয়েছে তারা। তবে জয়ের শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৮.৫৪। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই নয় দলের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা পাকিস্তানের জয়ের শতাংশ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৮১।
জো রুটের অপরাজিত অর্ধশতরান
এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩০ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। মহম্মদ আব্বাসের বলে ওপেনার বেন ডাকেট ও এমিলিও গে দু’জনেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ক্রিজে এসে শুরুতেই নার্ভাস দেখাচ্ছিল ইংল্যান্ডের রেকর্ড রানস্কোরার জো রুটকে। রজাউল্লাহর বলে তাঁর প্রথম বলেই স্লিপ দিয়ে চার রান আসে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন রুট। তিনি অপরাজিত অর্ধশতরান করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতান।
২ বার বেঁচে গেলেন জো রুট
মহম্মদ আলির বলে কাট করতে গিয়ে স্টাম্পে লাগিয়েছিলেন জো রুট। কিন্তু আম্পায়ার নো-বল ঘোষণা করায় বেঁচে যান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন বোলার। এর কিছুক্ষণ পর মহম্মদ আব্বাসের বলেও ফের জীবন পান রুট। প্রথম ও দ্বিতীয় স্লিপের মাঝখান দিয়ে বল বেরিয়ে গেলেও দুই ফিল্ডারের কেউই সেটি ধরার চেষ্টা করেননি। শেষপর্যন্ত ৫৭ বলে চার মেরে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রুট। কিছুক্ষণ পরই তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি করেন জর্ডান কক্সও। রুট ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। কক্স অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে।
পাকিস্তানের আশার আলো রজাউল্লাহ
এজবাস্টন টেস্ট ম্যাচ তিন দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত ইংল্যান্ড। কিন্তু অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা পাকিস্তানের পেসার রজাউল্লাহ ব্যাট হাতে দুর্দান্ত লড়াই করেন। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান করেন তিনি। যার মধ্যে ছিল নয়টি ছক্কা। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া ২১ বছরের এই নয় নম্বর ব্যাটার পাকিস্তানের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে নবম উইকেটে ১২১ রানের জুটি গড়েন সতীর্থ পেসার মহম্মদ আব্বাস। তাঁর অবদান ছিল ৪২ রান। তাঁদের প্রতিরোধের কারণে ম্যাচে সাময়িকভাবে উত্তেজনা ফিরেছিল।
৩ টেস্ট ম্যাচেই হার পাকিস্তানের
এজবাস্টন টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে রজাউল্লাহ ও মহম্মদ আব্বাসের লড়াইও পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। হার অবশ্যম্ভাবী ছিল। ঠিক সেটাই হল। সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টেও হারের ব্যবধান বড়ই হল।
দলে বদল করেও লাভ হল না পাকিস্তানের
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান দলে ব্যাপক রদবদল হয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং তাঁদের জায়গায় সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন রজাউল্লাহ। শুধু দলেই পরিবর্তন নয়, সফরের মাঝপথে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং সহকারী কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টে একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে তারা। তবে তাতে কোনও লাভ হল না।
ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। কয়েক সপ্তাহ আগেই নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার এবং প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের বিদায়ের পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটে তৈরি হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা। সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল ইংল্যান্ড।