
AFC Champions League Two 2026-27: মঙ্গলবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারিতে থাকা ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) সমর্থকরা এক পোস্টার নিয়ে এসেছিলেন। সেই পোস্টারের বক্তব্য ছিল, 'আমরা ফের হেরে যাওয়ার জন্য এতদূর আসিনি।' ফুটবলারদের চোখে পড়েছিল সেই পোস্টার। কিন্তু তাঁরা সমর্থকদের আশা পূরণ করতে পারলেন না। ঘরের মাঠে ওমানের (Oman) আল-সিবের (Al Seeb Club) কাছে ০-২ হেরে চলতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু থেকে ইস্টবেঙ্গলের বিদায় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল। এদিনই চলতি মরসুমে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স দেখাল ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দল। ৮৫ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে আল-সিবকে এগিয়ে দেন অ্যাক্সেল মেয়ে মি এনডং। এরপর ৯০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন জাহির সুলেমান আল-আগরাবি। এই গোলেই গ্রুপ থেকে ইস্টবেঙ্গলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল।
এদিন প্রথমার্ধের শুরুটা ভালো করলেও, তারপর ছন্দ হারায় ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণে ভেদশক্তির অভাব দেখা যাচ্ছিল। এডমুন্ড-ডেভিড পায়ে অতিরিক্ত সময় বল রাখছিলেন। তার ফলে বল বিপদমুক্ত করার সময় পেয়ে যাচ্ছিলেন আল-সিবের ডিফেন্ডাররা। আক্রমণে ফুটবলার বাড়াতেও পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। সন্দীপ-জিকসন-লালচুংনুঙ্গারা বিপজ্জনকভাবে পা চালাচ্ছিলেন। প্রথমার্ধেই হলুদ কার্ড দেখেন জিকসন ও লালচুংনুঙ্গা।১০ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। লালচুংনুঙ্গা-রশিদ অসাধারণ মুভমেন্ট তৈরি করেন। সেই মুভমেন্ট থেকে বল পেয়ে যান ড্যানি র্যামিরেজ। কিন্তু তিনি সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও গোলে বল রাখতে পারেননি। তাঁর শট দ্বিতীয় পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ১৯ মিনিটে গোলের জোড়া সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। র্যামিরেজের ক্রস থেকে বক্সে বল পেয়ে যান এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। তাঁর বাঁ পায়ের শট সেভ করে দেন আল-সিব ক্লাবের গোলকিপার ইব্রাহিম সালেহ আল-মুখানি। ফিরতি বলে মাইনাস করেন বিপীন সিং। রশিদের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩২ মিনিটে বিপীনের মাইনাস থেকে র্যামিরেজের শট সেভ করে দেন আল-সিবের গোলকিপার। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে রশিদের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জোরালো শট নেন আল-সিবের ডিফেন্ডার আলি সুলেমান আল-বুসাইদি। তবে তাঁর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। জয় গুপ্তার মাইনাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান ডেভিড। কিন্তু তিনি শট নেওয়ার বদলে ব্যাক হিল করার চেষ্টা করেন। পায়ে-বলে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় সুযোগ নষ্ট হয়। আল-সিবের ডিফেন্ডাররা দীর্ঘদেহী। সেখানে ইস্টবেঙ্গলের দুই স্ট্রাইকার এডমুন্ড ও ডেভিড খর্বকায়। ফলে তাঁরা শূন্যের কোনও বলেই হেড দিতে পারছিলেন না। এখানেই পিছিয়ে পড়ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৫৪ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির মাইনাস থেকে এডমুন্ডের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৬০ মিনিটে ডেভিডের পরিবর্তে মাঠে নামেন আকে লোবা। জিকসনের পরিবর্তে মাঠে নামেন রোহিত কুমার। মাঠে নেমেই র্যামিরেজকে অসাধারণ বল বাড়ান লোবা। কিন্তু র্যামিরেজের বাঁ পায়ের আউটস্টেপের শট সেভ করে দেন আল-সিবের গোলকিপার। ৬৩ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে যান রশিদ। তিনি নিজে শট না নিয়ে এডমুন্ডকে পাস দেন। এডমুন্ডের শট বাইরে চলে যায়। ৭০ মিনিটে ফের জোড়া পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গলের প্রধান কোচ অ্যান্টনিও লোপেজ হাবাস। এডমুন্ডের পরিবর্তে মাঠে নামেন লুকাস জোলিনস্কি এবং বিপীনের পরিবর্তে মাঠে নামেন হার্দিক ভাট। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলি কাজে লাগেনি।
ম্যাচের ১৬ মিনিটের মাথায় আনোয়ার আলির পেশিতে টান ধরে। তিনি আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সন্দীপ। তিনি ভালো খেলতে পারেননি। আনোয়ারের চোট গুরুতর কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তায় লাল-হলুদ শিবির।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।