East Bengal FC: 'আমার খেলার ভিডিও পাওয়া যাবে?' ইস্টবেঙ্গলের কথা উঠতেই আবেগপ্রবণ ওপোকু

Published : Sep 09, 2026, 04:03 PM ISTUpdated : Sep 09, 2026, 04:46 PM IST
Emmanuel Opoku East Bengal FC

সংক্ষিপ্ত

Emmanuel Opoku: প্রায় ২৮ বছর আগে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) হয়ে খেলতে এসেছিলেন ঘানার (Ghana) তিন ফুটবলার সুলে মুসা, জ্যাকসন ও ইমানুয়েল ওপোকু। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কমদিন কলকাতায় ছিলেন ওপোকু। কিন্তু এত বছর পরেও এই মিডফিল্ডারের কথা মনে রেখেছে লাল-হলুদ জনতা। ওপোকুও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ভালোবাসার কথা মনে রেখেছেন।

DID YOU KNOW ?
মুসা-জ্যাকসন-ওপোকু ত্রয়ী
ঘানা থেকে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলতে এসে তারকা হয়ে ওঠেন ইমানুয়েল ওপোকু, সুলে মুসা ও জ্যাকসন।

Emmanuel Opoku Exclusive: ‘আমি যে ম্যাচগুলিতে ভালো খেলেছিলাম, সেই ম্যাচগুলির ভিডিও পাওয়া যাবে? আমাকে যদি ভিডিওগুলি পাঠাতে পারেন তাহলে দেখব। কলকাতায় কাটানো দিনগুলির কথা সব মনে আছে। ক্লাব ও সমর্থকদের খুব মিস করি।’ ঘানা (Ghana) থেকে ফোনে একনিঃশ্বাসে বলছিলেন ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) প্রাক্তন মিডফিল্ডার ইমানুয়েল ওপোকু। ঘানার এই মিডফিল্ডার ১৯৯৮ সালে প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন। কেনিয়ার (Kenya) জাতীয় দলের অধিনায়ক স্যামুয়েল ওমোলো মোহনবাগানে (Mohun Bagan) চলে যাওয়ার পর রক্ষণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। মোহনবাগানের নাইজেরিয়ান (Nigerian) স্ট্রাইকার চিমা ওকেরিকে আটকানো যাচ্ছিল না। সেই সমস্যা মেটাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে ম্যানেজার স্বপন বলকে ঘানায় ফুটবলার বাছাই করতে পাঠানো হয়েছিল। ওপোকু, সুলে মুসা ও জ্যাকসনকে নিয়ে এসেছিলেন স্বপনবাবু। তিনি বলেছিলেন, এই তিনজনের মধ্যে সেরা ওপোকু। কলকাতায় পা রাখার কিছুদিনের মধ্যেই সমর্থকদের মন জয় করেছিলেন তিন ঘানাইয়ান। চিমাকে অকেজো করে দিয়েছিলেন জ্যাকসন। গ্যালারিতে স্লোগান উঠেছিল, 'আইলো ঘানা, চিমা কানা।' রাইট ব্যাক মুসা রক্ষণকে সাহায্য করার পাশাপাশি ওভারল্যাপ করে নিজে গোল করতেন এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেন। মাঝমাঠে ফুল ফোটাতেন ওপোকু। দূরপাল্লার শটে তাঁর গোল এখনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখে ভাসে।

দ্বিতীয় ম্যাচেই নজর কাড়েন ওপোকু

কলকাতায় আসার পর ১৯৯৮ সালের কলকাতা ফুটবল লিগে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর বিরুদ্ধে লাল-হলুদ জার্সি পরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন ওপোকু, মুসা ও জ্যাকসন। সেই ম্যাচে তাঁরা কেউই ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ওপোকুর ঘাড়ে চোট ছিল। তিনি মিনিট তিনেক খেলার পরেই মাঠ ছাড়েন। মুসা ও জ্যাকসন অবশ্য সারা ম্যাচ খেলেন। কিন্তু তাঁদের পারফরম্যান্স নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়। ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ছিল এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে (Asian Club Championship 1998-99) চিনের (China) ডালিয়ান ওয়ান্ডা (Dalian Wanda) ক্লাবের বিরুদ্ধে। প্রথম লেগে চিনে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে ০-৬ হেরে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফিরতি লিগের ম্যাচ হয় শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নজর কেড়ে নেন তিন ঘানাইয়ান। সেই ম্যাচ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। এরপর ওপোকুদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁরা তারকা হয়ে ওঠেন।

ইস্টবেঙ্গলের কথা উঠতেই নস্ট্যালজিক ওপোকু

ইস্টবেঙ্গলের হয়ে এক মরসুম খেলেই ফিরে গিয়েছিলেন ওপোকু। মুসা ও জ্যাকসন অবশ্য কলকাতায় থেকে যান। এই দুই ডিফেন্ডার ক্লাবকে জাতীয় লিগ, ডুরান্ড কাপ-সহ অনেক ট্রফি জিতিয়েছেন। সেই সময় ডুরান্ড কাপ হত দিল্লিতে (Delhi)। ১৯৯৮-৯৯ মরসুমের ডুরান্ড কাপে প্রায় মাঝমাঠ থেকে গোলার মতো শটে ওপোকুর গোল এখনও চল্লিশোর্ধ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে আছে। সে কথা উঠতেই ওপোকু বললেন, ‘আমার সব কথাই মনে আছে। সেই ম্যাচের কথা আমার মনে আছে। দূরপাল্লার শটে আমার সেই গোল দলকে ট্রফি জিততে সাহায্য করেছিল। আমরা যখন ট্রফি জিতেছিলাম, তখন ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের আনন্দের কথাও মনে আছে। কলকাতায় সেই দিনগুলি বড় সুন্দর ছিল।’

এখনও ইস্টবেঙ্গলের সব খবর রাখেন ওপোকু

প্রায় ২৭ বছর আগে কলকাতা ছাড়ার পর আর এই শহরে পা রাখেননি ওপোকু। তবে তাঁর সতীর্থ মুসা খেলা ছাড়ার পরেও একাধিকবার কলকাতায় এসেছেন। ওপোকু কলকাতায় না এলেও, ইস্টবেঙ্গলের সব খবর রাখেন। এই ঘানাইয়ান তারকা বললেন, ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি ভালো আছি। ইস্টবেঙ্গলের সব খবরই রাখি। দল এখন ভালো খেলছে জেনে ভালো লাগছে। আমি খবর পেয়েছি, দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র করেছে। দল আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাক, অনেক ট্রফি জিতুক। আমার শুভেচ্ছা রইল।’

কোচ হিসেবে কলকাতায় ফিরতে চান

প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর মুসার মতোই কোচিং করাচ্ছেন ওপোকু। ভবিষ্যতে সম্ভব হলে ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে কলকাতায় ফিরতে চান এই ঘানাইয়ান। তাঁর কথায়, ‘আমার দল ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে কলকাতায় ফিরতে পারলে খুব ভালো লাগবে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে সেটা হতেই পারে। আমি সমর্থকদের খুব মিস করি। ওঁদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।’ কলকাতা এখন অনেক বদলে গিয়েছে, ভারতীয় ফুটবল বদলে গিয়েছে। স্বপন বল, সুভাষ ভৌমিকরা ইহজগতে নেই। সব খবরই রাখেন ওপোকু। তাঁরও বয়স বেড়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও টান এতটুকু কমেনি। তাঁর সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র এই ক্লাব। এই কারণেই ফের কলকাতায় আসতে চান ওপোকু।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
১৯৯৯
১৯৯৯ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে শেষবার খেলেন ওপোকু।
ঘানার মিডফিল্ডার ইমানুয়েল ওপোকু ১৯৯৯ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে শেষবার খেলার পর ফিরে যান।
Sports News in Bengla (খেলার খবর): In depth coverage of Sports news in Bangla. Live update of sports news headlines today (আজকে খেলার খবরের হেডলাইনস এবং শিরোনাম) about Cricket, IPL, Badminton, Hockey - Asianet News Bangla.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Brazil in Kolkata: কলকাতায় ঐতিহাসিক ব্রাজিল ম্যাচ! চড়া দাম টিকিটের, কী অবস্থা এই মুহূর্তে?
US Open 2026: রাত তিনটেয় শেষ হল মহাকাব্যিক ম্যাচ, আলকারাজকে হারিয়ে সেমিতে শেলটন