US Open 2026: নিউ ইয়র্কের অর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে তিনটে। চার ঘণ্টা ২৮ মিনিটের রক্তচাপ বাড়ানো এক মহাকাব্যিক লড়াই শেষে স্তব্ধ গোটা গ্যালারি। ইউএস ওপেনের ইতিহাসে এতদিন পর্যন্ত এত গভীর রাতে কোনো ম্যাচ শেষ হয়নি।

US Open 2026: নিউ ইয়র্কের অর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে তিনটে। চার ঘণ্টা ২৮ মিনিটের রক্তচাপ বাড়ানো এক মহাকাব্যিক লড়াই শেষে স্তব্ধ গোটা গ্যালারি। গতবারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে সিংহাসনচ্যুত করে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে পা রাখলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ তুর্কি বেন শেলটন। পাঁচটি রোমাঞ্চকর সেটের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ফল ৬-৭ (৫-৭), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭)। ইতিহাস বলছে, ইউএস ওপেনের ইতিহাসে এতদিন পর্যন্ত এত গভীর রাতে কোনো ম্যাচ শেষ হয়নি।

রাত ৩টে ৩৪ মিনিটে শেষ হল ম্যারাথন ম্যাচ

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের রাতের সেশন শুরু হতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়। আগের ম্যাচ গড়ানোয় আলকারাজ এবং শেলটনের এই বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনাল যখন শুরু হয়, তখন স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টা। তবে ঘড়ির কাঁটা যত গড়িয়েছে, গ্যালারির উন্মাদনা কমেনি, বরং চড়েছে পারদ।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

চোট নিয়ে সংশয় ছিল

চার মাসেরও বেশি সময় কবজির চোটে বাইরে থাকার পর এই টুর্নামেন্ট দিয়েই কোর্টে ফিরেছিলেন সাতবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ২৩ বছরের আলকারাজ। রিহ্যাব কাটিয়ে ফিরে এসে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তাঁর যাত্রা কম প্রশংসনীয় ছিল না। কিন্তু শেষ আটে এসে শেষ পর্যন্ত তাঁর ফিটনেস এবং ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব স্পষ্ট ফুটে উঠল। অন্যদিকে, অষ্টম বাছাই ২৩ বছরের মার্কিন তারকা বেন শেলটনের ক্যারিয়ারের এটাই সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ১৭ বার চেষ্টা করেও বিশ্বের শীর্ষ তিন নম্বর খেলোয়াড়ের কাউকে তিনি হারাতে পারেননি। এমনকি আলকারাজের মুখোমুখি হয়ে আগের তিন সাক্ষাতেই হারতে হয়েছিল তাঁকে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

কীভাবে জিতলেন শেলটন

প্রথম সেটে টাইব্রেকারে হেরে গিয়েও দমে যাননি শেলটন। পরের দুটি সেটে আলকারাজের ওপর অলআউট আক্রমণে যান তিনি। ৬-১, ৬-৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করেন এই আমেরিকান। তবে লড়াকু স্প্যানিশ তারকা আলকারাজও সহজে জমি ছাড়ার পাত্র নন। চতুর্থ সেটে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে।

পঞ্চম সেটের লড়াই গড়ায় ১০ পয়েন্টের মহানাটকীয় ড্রামাটিক টাইব্রেকারে। সেখানে প্রতিটি পয়েন্টের জন্য চলল শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার চরম পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে ১০-৭ পয়েন্টে টাইব্রেকার পকেটে পুরে নেন শেলটন। এই জয়ের সাথে সাথে ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর প্রথম কোনো আমেরিকান হিসেবে ইউএস ওপেন জেতার আশাও জিইয়ে রাখলেন তিনি। শুক্রবার সেমিফাইনালে তাঁর মুখোমুখি হবেন আরেক মার্কিন তারকা ফ্রান্সিস টিয়াফো, অর্থাৎ এবারের ইউ এস ওপেনে পুরুষদের সিঙ্গলসের ফাইনালে একজন ঘরের ছেলের খেলা পুরোপুরি নিশ্চিত।