Erling Haaland: রুপকথার নায়ক তিনি। অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। বড় দল ব্রাজিল? সেই তকমা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে রুপকথার নায়ক হালান্ড (Erling Haaland)। কার্যত, একাই শেষ করে দিলেন আনসেলোত্তির দলকে। লুটিয়ে পড়ল হেক্সা, দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল নরওয়ে (Erling Haaland goals)। একটাই পেনাল্টি না পেয়ে। যেখানে ব্রাজিল দুটো পেনাল্টি পেয়েও পরাজিত। একমাত্র গোলটিও এসেছে ওপেন ফুটবল খেলে নয়, পেনাল্টি মেরে!
কিন্তু আর্লিং হালান্ড যে ফুটবলটা উপহার দিলেন, সেটা অসধারণ। গোটা ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স। অনেকেই ভাবতে পারেননি যে, নরওয়ে ব্রাজিলকে হারাতে পারে। কিন্তু ফুটবলে সবকিছু সম্ভব। কারণ, ব্রাজিলের তুলনায় অনেক অনেক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে নরওয়ে। ঠিক যেমন মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করে আক্রমণ তুলে এনেছে, ঠিক তেমনই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকেও নাস্তানুবাদ করে ছেড়েছে সেলেকাও ডিফেন্সকে। হেক্সা যেন স্বপ্নে হারিয়ে গেল। গোটা গ্যালারি জুড়ে তখন নরওয়ে সমর্থকদের গর্জন, আর সেই চেনা সেলিব্রেশনে মত্ত নরওয়ের ফুটবলাররা।
মলি উলফ, হেগেম, ক্রিস্টোফার আয়ের এবং জুলিয়ান রাইয়ারসন, এই চার ডিফেন্ডার সদা সতর্ক ছিলেন। ব্রাজিলের একের পর আক্রমণকে প্রতিহত করেছেন যারা। আর খেলা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন প্যাট্রিক বার্গ, ওডেগার্ডরা। ৪-১-২-৩ ফর্মেশনেই বাজিমাত করলেন স্টালে সলবাকেন। যিনি কার্লো আনসেলোত্তির পরিকল্পনাকেও ভুল প্রমাণ করে ছাড়লেন। পাশাপাশি দলের গোলকিপার ওরিয়ান নাইল্যান্ডেরও প্রশংসা করতে হয়। সবশেষে শেষ দুই অস্ত্র ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে গেলেন ব্রাজিল ডিফেন্সে। আন্তোনিও নুসা এবং অবশ্যই আর্লিং হালান্ড।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম যে গোলটি করলেন, তা অনবদ্য। আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরাপের মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত হেডারে গোল করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে পৌঁছে গেলেন। কিন্তু এক গোল তো এই ধরনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে কখনোই নিরাপদ নয়। তাই আক্রমণ থেকে সরে আসেননি তারা। সবথেকে বড় বিষয় হল, নরওয়ে মাঝমাঠ ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছিল। আবার এটাও ঠিক যে, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে গোল করেই ডিফেন্সে নেমে যাবো, সেই মানসিকতাও দেখায়নি নরওয়ে। বরং, তাদের স্বাভাবিক ফুটবলটাই খেলে গেছে তারা। আর তাতেই এল সাফল্য। দ্বিতীয় গোলটিো করেন সেই হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে কী অসাধারণ ফিনিশ। রাইট বটম কর্নার দিয়ে গোল। সত্যিই ব্রাজিলকে নাচিয়ে ছাড়লেন।
পরিসংখ্যান বলছে, আর্লিং হালান্ড চলতি বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলে ৭টি গোল করে ফেলেছেন। একটি গোলের ক্ষেত্রে তাঁর অ্যাসিস্টও রয়েছে। সব ম্যাচেই তিনি গোল পেয়েছেন। তাই বড় দল ব্রাজিল? সেই তকমা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে রুপকথার নায়ক হালান্ড! তাঁর জোড়া গোলের সুবাদেই ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়াটার ফাইনালে পৌঁছে গেল নরওয়ে। লুটিয়ে পড়ল হেক্সা, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শামিল তরুণ তুর্কি হালান্ড।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।