
Durand Cup 2026: সাহাল আবদুল সামাদের দুরন্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে (CISF Protectors) ৬-০ উড়িয়ে ১৩৫-তম ডুরান্ড কাপের গ্রুপ ‘এ’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)। সোমবার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করেছে সবুজ-মেরুন শিবির। এদিন সাহাল প্রথমার্ধেই তিন গোল করেন। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন মনবীর সিং, জেমি ম্যাকলারেন এবং টেকচাম অভিষেক সিং। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নিখুঁত রেকর্ডে গ্রুপ পর্ব শেষ করল পানাজিওটিস দিলিমপেরিসের দল। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ফলে এই ম্যাচের আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাদের। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে হারের পর সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের লক্ষ্য ছিল অন্তত পয়েন্ট পেয়ে অভিযান শেষ করা। কিন্তু সেটা হল না।
ম্যাচের শুরুতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের একের পর এক আক্রমণ সামলে বেশ কিছুটা সময় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের রক্ষণ। অধিনায়ক মহম্মদ খালিদের নেতৃত্বে ডিফেন্স সামলাচ্ছিল তারা। নবম মিনিটে দূরপাল্লার নিচু শটে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের গোলকিপারের পরীক্ষা করেন শুভাশিস বসু। তবে ১৭ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। নিজেদের অর্ধ থেকে দুর্দান্ত একটি ডিফেন্স-চেরা পাস বাড়ান ডেজান দ্রাজিচ। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান টেকচাম অভিষেক সিং। তাঁর শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লিস্টন কোলাকোর সামনে আসে। কোনও স্বার্থপরতা না দেখিয়ে লিস্টন বল বাড়িয়ে দেন সাহালের দিকে। সহজেই গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল। দুই মিনিট পরেই ব্যবধান বেড়ে যায়। মনবীর সিংয়ের দুর্দান্ত পাসে ডান দিক দিয়ে উঠে যান দ্রাজিচ। এরপর গোলের সামনে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সহজেই বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাহাল। ২৪ মিনিটে তৃতীয় গোল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। ডান দিক থেকে টেকচাম অভিষেকের নিখুঁত ক্রস নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত ফিনিশ করেন মনবীর সিং। এরপর আরও একবার গোলের সুযোগ তৈরি হয়। ভুল পাস কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মনবীর। তবে মুনিশ কুমারের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপে নিশ্চিত আত্মঘাতী গোল থেকে বেঁচে যায় সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স। ৩৭ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাহাল। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যান তিনি। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে প্রথমার্ধেই নিজের তৃতীয় গোল পূর্ণ করেন। বিরতির আগে আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। শুভাশিস বসুর ক্রস সামান্য ছুঁয়ে মনবীরের মাথা থেকে বল বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধে ৭৫ শতাংশ বলের দখল ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। বিপরীতে প্রথম ৪৫ মিনিটে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের মাত্র একটি শট লক্ষ্যের বাইরে যায়। ফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় সবুজ-মেরুন।
বিরতির সময় চারটি পরিবর্তন করেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রধান কোচ দিলিমপেরিস। আসিশ রাই, অ্যালেক্স সাজি, কিয়ান নাসিরি গিরি এবং অভিষেক ধনঞ্জয় সূর্যবংশী মাঠে নামেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে সবুজ-মেরুনে একাদশে ছিলেন শুধুই ভারতীয় ফুটবলার। তাতেও আক্রমণের ঝড় বজায় থাকে। একাধিক সুযোগ পেলেও কিছুটা ফিনিশিংয়ের অভাবে ব্যবধান বাড়ছিল না। মনবীর গোলরক্ষককে টপকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে আসিশ রাইয়ের ক্রস থেকে হেডে বল বাইরে পাঠান তিনি। লিস্টনের শটও আটকে দেন সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের ডিফেন্ডাররা। মনবীরকে আরও একবার গোল করতে দেননি গোলকিপার রাজকুমার মাহাতো। অবশেষে ৬৮ মিনিটে আসে পঞ্চম গোল। সাহালের অসাধারণ নো-লুক থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন পরিবর্ত হিসেবে নামা জেমি ম্যাকলারেন। গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। পাঁচ মিনিট পরেই ষষ্ঠ গোল। লিস্টন কোলাকোর সঙ্গে সুন্দর বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে পড়েন টেকচাম অভিষেক সিং। নিখুঁত টাইমিংয়ে নেওয়া তাঁর শট সোজা চলে যায় গোলের ছাদে। শেষদিকে সান্ত্বনাসূচক গোলের সুযোগ পেয়েছিল সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সে। জ্যাকব সি-র ক্রস থেকে গোল করার সুযোগ পান পরিবর্ত হিসেবে নামা গৌরব দাস। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। পরে ফ্রি-কিকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হুসেনকে পরীক্ষা করেন তিনি। সংযোজিত সময়ে দুর্দান্ত একটি সেভ করে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের আরেকটি গোলের সম্ভাবনা নষ্ট করেন জাহিদ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তেও গোলের সন্ধানে ছিলেন লিস্টন। কিন্তু একবার বল বারের উপর দিয়ে চলে যায় এবং পরের প্রচেষ্টা সরাসরি গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে। শেষপর্যন্ত ৬-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটও কেটে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, তিন ম্যাচে একটিও পয়েন্ট না পেয়ে ১৩৫-তম ডুরান্ড কাপ থেকে বিদায় নিল সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।