
Youth Olympic Games 2026 Wushu: সংসারে অভাব, আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মেয়েকে পাঠাতে টাকা ধার করতে হয়েছে। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন মণিপুরের (Manipur) ১৫ বছর বয়সি উশু খেলোয়াড় রাজকুমারী লানচেনবি চানু (Rajkumari Lanchenbi Chanu)। সেনেগালের (Senegal) ডাকারে (Dakar) ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে উশুতে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস গড়েছেন রাজকুমরাী। ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসের উশু বিভাগে ভারতের প্রথম পদক এনে দিয়েছেন এই কিশোরী। তবে ব্রোঞ্জ জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না এই কিশোরী। পরের প্রতিযোগিতায় সোনা জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মোট ১৮.০৩৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন রাজকুমরাী। গানশু (স্টাফ রুটিন) বিভাগে তাঁর সংগ্রহ ৮.৭২৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, চ্যাংকুয়ান (লং ফিস্ট) বিভাগে তিনি পেয়েছেন ৯.৩১৬ পয়েন্ট। প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেই এমন সাফল্য নজর কেড়েছে ক্রীড়ামহলের।
লানচেনবির বাবা রাজকুমার অরুণ সিং একটি লজিস্টিক সংস্থায় গাড়ি চালান। মা রাজকুমার ওংবি মণিপুর ড্রামাটিক ইউনিয়নের সঙ্গে শিল্পী হিসেবে যুক্ত। দুই সন্তানের মধ্যে লানচেনবি দ্বিতীয়। ইম্ফলের হেইরাঙ্গোইথং আহোংশাংবাম লেইকাই অঞ্চলে তাঁদের বাড়ি ছিল। এখন পূর্ব ইম্ফল জেলার থোংজু পার্ট-২-এর কাকওয়া নামেইরাকপাম লেইকাই অঞ্চলে থাকেন তাঁরা। ২০১৭ সালে জিমন্যাস্টিকসের মাধ্যমে ক্রীড়াজীবন শুরু রাজকুমারীর। ২০১৯ সালে সাব-জুনিয়র বিভাগে রাজ্যস্তরের জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় প্রথম ব্রোঞ্জ পদক জেতেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে উশুতে যোগ দেন। দেশের মাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জিতে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এই কিশোরী। এবার প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেমেই যুব অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পদক জয়ের আনন্দ প্রকাশ করেছেন রাজকুমারী। নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছে নকোচ এবং পরিবারকে। তবে সোনা বা রুপো জয়ের আশা থাকলেও কিছু ভুলের কারণে ব্রোঞ্জ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজকুমারীর কথায়, ‘২০২৬ সালের প্রথম উশু ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতে আমি ভীষণ খুশি। এই পদক আমি আমার কোচ এবং পরিবারকে উৎসর্গ করতে চাই। ওঁরা আমাকে প্রচুর উৎসাহ ও সমর্থন দিয়েছেন। আমার আশা ছিল সোনা বা রুপো জিতব। কিন্তু কয়েকটি ভুল করেছিলাম, যার জন্য ব্রোঞ্জ পেয়েছি। পরের বার আরও ভালো পারফর্ম করে দেশের জন্য সোনা নিয়ে আসতে চাই।’
রাজকুমারীর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক পরিবারের দীর্ঘ লড়াই। মেয়েকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠানোর জন্য আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে পরিবারকে। খেলাধুলোর পোশাক, সরঞ্জাম এবং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির খরচও ছিল অনেক বেশি। সীমিত আয়ের সংসারে সেই খরচ জোগাড় করা ছিল রীতিমতো কঠিন। মেয়ের পদক জয়ের পর এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন রাজকুমারীর বাবা। তিনি জানিয়েছেন, মাসে মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা আয় করে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের খেলাধুলোর খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেয়েকে পাঠানোর জন্য পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে টাকা। সরকার, ক্রীড়া সংস্থা এবং কোচদের সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।