অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলা বাদ পড়েছেন বলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারা এই তালিকায় রয়েছেন, কেন নাম বাদ গেল এবং নতুন উপভোক্তা তালিকা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে—জেনে নিন বিস্তারিত।
ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, লক্ষীর ভাণ্ডার বদলে নাম রাখা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, এবং সেখানে ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে মহিলাদের। সেই মতোই সরকার গঠনের পর লক্ষীর ভাণ্ডারের তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে।
213
কিন্তু প্রথম ধাপেই বাদ গিয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলার নাম। রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) আগে জানিয়েছিল যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবে না। সেই সূত্র ধরেই বাদ পড়া ২৯ লক্ষ মহিলার মধ্যে আনুমানিক ১৯% নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ গিয়েছে। তবে এখনও চলছে যাচাই প্রক্রিয়া।
313
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী Agnimitra Paul। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে এবার সামনে এল বড় আপডেট। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়ার আগে শুরু হওয়া যাচাই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলার নাম বাদ গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্য সরকার আগেই স্পষ্ট করেছিল, এসআইআর বা বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন না। সেই নিয়ম অনুযায়ীই এবার বহু উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
513
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ২৯ লক্ষ মহিলার নাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মধ্যেই আনুমানিক ১৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ নাম প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে খবর। ফলে বহু উপভোক্তার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
613
বিগত এসআইআর প্রক্রিয়ায় যারা মৃত, ডুপ্লিকেট বা স্থানান্তরিত ভোটার ছিল, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা। এমনকি যারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও বাদ গিয়েছে, তাঁদেরও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার কথা নয়। একথা আগেই জানিয়েছিলাম রাজ্যের পুরমন্ত্রী। কিন্তু যারা ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের নাম ওয়েটিং লিস্টে রাখা হবে। নিষ্পত্তি হলে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
713
এদিকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এবার এএসডিডি ক্যাটাগরির আওতায় এসআইআর-র সময় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। তার মধ্যে অর্ধেক যদি ধরি, তাহলে ২৯ লক্ষ মহিলা থাকতে পারেন। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা মিলিয়ে মোট বাদ পড়া উপভোক্তার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন, যেখানে প্রথমেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখান থেকে বাদ পড়েছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৮১ জন।
813
আপাতত এই সংখ্যা ধরলেই রাজ্য সরকারের মাসিক সাশ্রয় হবে ১৬৫ কোটি টাকা, যা বছরের হিসাবে ১৯৮২ কোটি। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মোট ২.২১ কোটি উপভোক্তা ছিল বলেই দাবি করেছিল।
913
তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। ফলে পরবর্তী ধাপে আরও কিছু নাম যুক্ত বা বাদ পড়তে পারে। অর্থাৎ এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
1013
সূত্রের খবর, মূলত নথিপত্রের অসঙ্গতি, একাধিক প্রকল্পে নাম থাকা, তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা কিংবা যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়ার মতো কারণেই বহু নাম বাদ পড়ছে। আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য সরকারি নথির তথ্য মিলিয়ে দেখেই এই যাচাই চলছে বলে জানা গিয়েছে।
1113
এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, বহু প্রকৃত উপভোক্তার নামও বাদ যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই এই কঠোর যাচাই প্রয়োজন।
1213
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো নাম বা অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দিতে এই ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
1313
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা এবং সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.