অন্নপূর্ণায় যোগ্য হয়েও বাদ বহু মহিলা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ডেটাবেসই কি কাল হল? তদন্ত শুরু

Published : Sep 11, 2026, 09:37 AM IST
annapurna yojana

সংক্ষিপ্ত

অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু মহিলার নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে একটি ভোটকুশলী সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিযুক্ত ওই সংস্থার কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধেই যাচাই প্রক্রিয়ায় গলদের অভিযোগ উঠেছে।

অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু মহিলার নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে একটি ভোটকুশলী সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিযুক্ত ওই সংস্থার কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধেই যাচাই প্রক্রিয়ায় গলদের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনই কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ওই ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের একাংশ। গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত, বিডিও, এসডিও-সহ বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং শহরের একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানেও তাঁরা কাজ করতেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের একটি ডেটাবেসও ওই সংস্থার কাছে ছিল বলে অভিযোগ।

গোয়েন্দাদের সূত্রে খবর, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের সময় সরকারি নথির পাশাপাশি, এমনকী অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই সংস্থার কাছে থাকা ডেটাবেসকে। ফলে ওই ডেটাবেসে নাম না থাকায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তথ্যই কি যাচাইয়ের ভিত্তি?

অভিযোগ উঠেছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের তালিকা গ্রামভিত্তিক ভাবে ওই ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের কাছে ছিল। নতুন উপভোক্তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, তৃণমূল-অধ্যুষিত এলাকার বহু মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেলেও বিরোধী-প্রভাবিত এলাকার বহু মহিলা আবেদন করেও সেই সুবিধা পাননি। সেই পুরনো ডেটাবেসের ভিত্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন যাচাই করা হয়ে থাকলে, তার প্রভাবেই যোগ্য মহিলাদের একটি অংশ বাদ পড়ে থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান। নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের নথি যাচাই শুরু করলে ওই সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একাংশ সেই কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কাছে থাকা ডেটাবেসের সঙ্গে আবেদনকারীদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। অভিযোগ, সরকারি নথিতে যোগ্যতা প্রমাণিত হলেও ডেটাবেসে নাম না থাকায় অনেকের আবেদন বাতিল বা আটকে যায়।

বিক্ষোভের নেপথ্যেও কি উসকানি?

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও রেললাইন অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। এই বিক্ষোভগুলির নেপথ্যে ওই ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের একাংশের উসকানি ছিল কি না, সেই বিষয়টিও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। যোগ্য মহিলারা কেন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়লেন, যাচাই প্রক্রিয়ায় কোথায় গলদ হয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

সরানো হয়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের?

সূত্রের দাবি, ওই সংস্থার কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অন্নপূর্ণা যোজনার যাচাই প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থার কাছে থাকা সংশ্লিষ্ট ডেটাবেসও সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ডেটাবেস কীভাবে একটি বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থার হাতে পৌঁছল? সেই তথ্য কে বা কারা দিয়েছিল এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও পৃথক ভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

নন্দীগ্রাম না রেজিনগর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনটি সবথেকে নিরাপদ আসন? দেখুন ছবিতে
Today’s News in Bengali Live: নন্দীগ্রাম না রেজিনগর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনটি সবথেকে নিরাপদ আসন? দেখুন ছবিতে