
বিপদ আরও বাড়ল বীরভূমের 'পাথর সম্রাট' টুলু মণ্ডলের। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই বেপাত্তা টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। অন্তরালে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টুলু। টুলুর সেই আবেদনের মামলা খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। সেইসঙ্গে রক্ষাকবচও খারিজ করে দিল আদালত। ফলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং টুলুকে গ্রেফতার করতে আর কোনও বাধা রইল না।
মঙ্গলবার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতে টুলু মন্ডলকে হাজিরা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 'ন্যাশানাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ জানিয়েছে গত ২৩ মে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন টুলু মন্ডল। আদালত রক্ষাকবচ দিলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আবারও হবে- জামিনের বিরোধিতা করে এমনটাই জানান এজি।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তখন বলেন, 'অস্বীকার করছি না এটা একটা বড় অপরাধ। আমি মূল বিষয়ে যাচ্ছি না।' এরপরই মুখ বন্ধ খামে আদালতে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেয় রাজ্য। রিপোর্ট জমা দিয়ে এজি বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রিপোর্ট পড়ে দেখুন কেন জামিন অযোগ্য ধারা দেওয়া হয়েছে।’ মামলাকারী টুলুর আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, 'মামলাকারী কি জেনে গিয়েছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে ৩০ জুলাই ২৬টি এফআইআর দায়ের হবে! তাই তাঁকে পলাতক বলা ঠিক হবে না। আদালত রক্ষাকবচ দিলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজিরা দিতে কোনও অসুবিধা নেই।'
এর আগে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাকে চ্যালেঞ্জ করেও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টুলু মন্ডল। কিন্তু বিচারপতি কৌশিক চন্দ সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছিলেন। এফআইআর দায়েরের পর থেকেই বেপাত্তা টুলু। তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাই তাঁর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিতে কোনও ভুল নেই বলে মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা।বীরভূমের পাথর 'সম্রাট' তথা ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল নাকি বিদেশে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমনটাই জানান।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। সেই টুলু মণ্ডল গত ৫ আগস্ট আইনি রক্ষাকবচের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। সম্প্রতি এসটিএফ অভিযান চালিয়ে টুলুর বিশাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রায় ১৪৪ কোটি নগদ টাকা, ২৪২টি গাড়ি, ৩০০ বিঘা জমি সহ ২১টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলুর বিশাল সম্পত্তির তল পেতে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, শ্যালক এবং শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে এসটিএফ। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার দেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকেও নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিনারের বাড়ি থেকে নগদ এবং সোনা উদ্ধারের পর বীরভূম জেলা পুলিশ টুলুর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। পুলিশ সূত্রে খবর, এছাড়াও টুলুর বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। জানা গিয়েছে, বিশাল নগদ এবং সোনা উদ্ধারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে, সেই মামলাতেই গ্ৰেফতারির আশঙ্কা করে রক্ষাকবচের আবেদন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। তবে তার নতুন আবেদনের মামলাটি গ্ৰাহ্য না করে, ফেরত পাঠিয়ে দেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যও তাঁর আবেদনের খারিজ করে দেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অন্য জায়গায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালা বদল হতেই বেপাত্তা টুলু মণ্ডল। তিনি বিদেশে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে খবর। মামলা করতে গেলে ওকালতনামায় এবং মামলার নথিতে সই করতে হয় মামলাকারীকে। তাই যে টুলু মণ্ডলের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না, পলাতক অবস্থায় সে কী করে হাইকোর্টে একের পর এক মামলা করছেন, সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।