
২০২৫ সালের নতুন নিয়ম মেনেই হবে এসএসসি-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিতে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলা হবে। ২০১৬ এসএসসি নিয়োগ মামলায় হাইকোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগে ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। রাজ্য ও কমিশনকে সমন্বয়সাধন করে ওবিসি নীতি চূড়ান্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ বিচারপতি অমৃতা সিনহার। নতুন নিয়োগবিধিতে বয়সে ছাড়, শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি, নম্বর সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সেগুলিও কমিশনকে মাথায় রাখার কথা বলেন বিচারপতি সিনহা। আগামী ২১ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।
২০২৫ সালের তৈরি নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে। নতুন নিয়মে নিয়োগ প্রক্রিয়া হলেও দুর্নীতির সঙ্গে কোনও রকম আপোষ করা হবে না। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এসএলএসটি-র একটি মামলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে জানাল স্কুল সার্ভিস কমিশন। এদিন শুনানিতে রাজ্যের তরফে সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য্য আদালতকে জানান, ২০২৫ সালের নিয়মে নিয়োগ প্রক্রিয়া হলেও দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই চলবে রাজ্য সরকারের। ভবিষ্যতে কোনও নিয়োগে দুর্নীতির জায়গা নেই। ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ীই দ্বিতীয় এসএলএসটি নিয়োগ হবে।
তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের এসএসসির গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করা হলেও শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রেখে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয়। এবং চিহ্নিত অযোগ্যদের বাদ রেখে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালতের এই নির্দেশের পর ২০২৫ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। নতুন নিয়মেই শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। কিন্তু, নতুন নিয়মে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন ২০২৫ সালের নিয়মে হবে? - এই প্রশ্ন তোলেন চাকরিহারাদের একাংশ। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০১৬ সালের নিয়মেই করতে হবে বলে দাবি করেন তাঁরা।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। শুক্রবার আদালতে এই নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল এসএসসি। ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে বলে জানাল কমিশন। সেই সঙ্গে, ভবিষ্যতে কোনও নিয়োগেই দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করা হবে না বলেও জানিয়ে দিল কমিশন।
এদিন শুনানিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওবিসি কোটায় ১৭ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টিও উত্থাপন করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। নতুন নিয়োগবিধিতে বয়সে ছাড়, শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি, নম্বর সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সেগুলিও কমিশনকে মাথায় রাখার কথা বলেন বিচারপতি। এদিন শুনানিতে নিয়োগে ওবিসি-তে সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে কমিশন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর ২০১০ সালের পর রাজ্যে ইস্যু হওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট এবং তালিকাভুক্ত বহু সম্প্রদায়কে বাতিল করা হয়েছে। তাই নিয়েও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সেটাও কমিশনকে মাথায় রাখতে পরামর্শ দেন বিচারপতি সিনহা। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি-কে সমন্বয়সাধন করে ওবিসি সংক্রান্ত নীতি চূড়ান্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলেও কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ আগস্ট।