
আইপ্যাক কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসের। তাদের মামলা নিষ্পত্তি করে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তৃণমূলের মামলায় আবেদন করা হয়েছিল, যাতে ইডি-র বাজেয়াপ্ত করা গোপন রাজনৈতিক নথি সংরক্ষণ করা হয়। যদিও, শুনানিতে ইডি-র আইনজীবী জানিয়ে দিন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, কারণ, নথি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ছিনিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। যে নথি তারা বাজেয়াপ্ত করেনি, তা কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ইডি-র আইনজীবীর এই দাবি রেকর্ডের পরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার নিষ্পত্তি করে দেন।
যদিও, ইডি-র করা মামলা মুলতবি করেছেন বিচারপতি। ইডি সেই আবেদনই করেছিল। যে হেতু আইপ্যাক নিয়ে ইডি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে, সেখানে কী হয়, তা দেখার পর আবার হাই কোর্ট ইডির মামলা শুনবে। তত দিন কেন্দ্রীয় সংস্থার করা মামলা মুলতুবি থাকবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ। বিচরপতি উল্লেখ করেছেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ করেছিল , আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চলাকালীন নথি ও ইলেকট্রনিক্স প্রমাণ পুলিশ ও আধিকারিকদের নিয়ে এসে ছিনিয়ে নিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ইডি-র আইনজীবী হাইকোর্টের কাছে অনুরোধ করেন যে, নথিগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে গিয়েছেন—এই মর্মে তাঁর বক্তব্যটি যেন রেকর্ড করা হয়। আদালত আরও রেকর্ড করে যে, তল্লাশির সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কোনও ডেটার ব্যাকআপ তৈরি করেনি। তাই তৃণমূলের উচিত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা। যদি তৃণমূল এমন আবেদন জানায়, তবে ইডি তাদের সমর্থন করবে। তৃণমূলের হয়ে মামলাটি করেছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। তাঁর মামলা করার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইডির আইনজীবী। তিনি আদৌ ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না, প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইডি বনাম আইপ্যাক মামলার শুনানির সময় হাইকোর্ট রেকর্ড করে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র আবেদন রাজনৈতিকভাবে গোপনীয় তথ্য যাতে প্রচারিত বা ফাঁস না হয়, তার সংরক্ষণ ও সুরক্ষা। অন্য কোনও আবেদনের উপর জোর দেওয়া হয়নি। ইডির আইনজীবী নির্দেশ অনুযায়ী জানান যে, ৮ জানুয়ারি তল্লাশির পর দুটি জায়গা থেকে কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। আদালত ইডি-র পেশ করা পঞ্চনামা খতিয়ে দেখে জানায় যে আইপ্যাকের কার্যালয় বা ডিরেক্টরের বাড়ি থেকে কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। এইসব আবেদন ও নথিপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় দেয় যে, আবেদনটিতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং সেই অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ই-ির করা মামলা বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হতে পারে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।