Calcutta HC On WB SSC Scam: কোনওরকম তথ্য যাচাই না করেই বদলি। এসএসসি-র ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের। কী বলল আদালত? বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…
এবার শিক্ষক নিয়োগ মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এসএসসি-এর খামখেয়ালিপনা নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তথ্য যাচাই না করেই বদলির নির্দেশ দেওয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের।
25
শিক্ষক বদলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের
বীরভূমের বাসিন্দা পার্থসারথি দোলুই ২০১৩ সালে গ্রুপ ডি পদে চাকরি পান। তাঁর কর্মস্থল ছিল বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। ২০২০ সালে শারীরিক অসুস্থতা এবং স্ত্রীর কিডনির জটিল সমস্যার কারণে বাড়ির কাছাকাছি কোনও স্কুলে বদলির আবেদন জানান তিনি। স্কুল শিক্ষা দফতরে সেই আবেদন জমা পড়ে। পরে এসএসসি সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে তাঁকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি স্কুলে যোগদানের নির্দেশ দেয়।
35
শূন্যপদ নিয়ে প্রশ্ন আদালতের
জানা গিয়েছে, নতুন স্কুলে যোগ দিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন পার্থসারথি। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে কোনও শূন্যপদ নেই। ফলে প্রশ্ন ওঠে শূন্যপদ না থাকলে বদলির নির্দেশ এল কীভাবে? এই নিয়ে জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই) এবং এসএসসি চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার আবেদন জানান তিনি। জানতে চান, শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও কেন বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর সেই আবেদনের কোনও উত্তর মেলেনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানিতে পার্থসারথির আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, একজন অসুস্থ কর্মী এবং তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর মানবিক দিক বিবেচনা করে নিয়ম মেনে বদলির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তথ্য যাচাই না করেই বদলির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেখানে শূন্যপদই নেই, সেখানে একজন কর্মীকে পাঠিয়ে কার্যত তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
55
এসএসসির ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ
আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়, যথাযথ শূন্যপদ থাকা কোনও স্কুলে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হোক। এসএসসির এই ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আদালতের প্রশ্ন, শূন্যপদের তথ্য যাচাই না করেই কীভাবে বদলির নির্দেশ জারি হল? এভাবে কোনও কর্মীকে অনিশ্চয়তায় ফেলে রাখা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের। শেষ পর্যন্ত এসএসসি-কে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত উপযুক্ত শূন্যপদযুক্ত স্কুলে বদলির ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে কমিশনকে।