'আমার শরীরের এমন দুটো পার্ট বাদ গেছে'! বিরোধী নেত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, সাফ জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Published : Feb 18, 2026, 11:49 AM IST

Mamata Banerjee News: বিরোধী নেত্রী থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ৩০ বছরের বৈচিত্র্যময় রাজনীতিতে দেখেছেন একাধিক সরকারের পালাবদল। ক্ষমতায় আসা এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে এই পথ কতটা মসৃণ আর কঠিন ছিলো? কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? জানুন বিশদে… 

PREV
16
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থান কীভাবে?

২০১১ সালে বাংলায় বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। প্রথমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছিলেন বাংলার মসনদে। সেই থেকে একটানা ১৫ বছর ধরে নিজের কাঁধেই চলছে বাংলার শাসনভার, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরু দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  তিনবার শপথ নিয়েও ফেলেছেন। তিনিই হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অষ্টম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। যদিও তার এই ১৫ বছরের শাসনকালে নানান চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলার মসনদ ধরে রাখতে হয়েছে। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। 

26
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সফর

২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে টাটা ন্যানো প্রকল্পের জন্য জোরপূর্বক কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক আন্দোলন ছিল বামফ্রন্ট সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। কৃষি ও কৃষকের অধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন ২০০৮ সালে টাটাদের সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য করে, যা পরে 'মা-মাটি-মানুষ' সরকারের ক্ষমতা লাভের পথ প্রশস্ত করে। বাম শাসন টলিয়ে ২০১১ সালের মে মাসে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার। বাংলার অষ্টম এবং প্রথম বাঙালি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

36
বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কংগ্রসের হাত ধরে রাজনৈতিক আঙিনায় প্রবেশ করলেও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের কর্মী হিসেবে শুরু হয়। যেখানে তিনি ১৯৭৬-১৯৮০ সাল পর্যন্ত রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এবং কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য হন। তারপর প্রধান বিরোধী নেত্রী থেকে কংগ্রেস ত্যাগ, দলবদল করে নিজের আঞ্চলিক দলের প্রতিষ্ঠা এবং ২০১১ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। 

46
রাজনীতির মঞ্চে আক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম আন্দোলন। প্রধান বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন বারে বারে আন্দোলন-অনশন করে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন তিনি। কিন্তু সেই লড়াই-অনশন কতটা কঠিন ছিলো? সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তুলে ধরেছেন অতীতের বাম শাসনের সময়ে তার এবং তার দলের কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা। 

56
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী মারামারি-হিংসা, বেফাঁস মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তবুও বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে সর্বভারতীয় ওই সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, ‘’আমার শরীরের এমন দুটো পার্ট বাদ গিয়েছে…যেটা বললে লোকে লজ্জা পাবে।''

66
এখনও অব্যাহত লড়াই?

তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে বারে বারে দিল্লি আন্দোলন হোক কিংবা সদ্য হওয়া এসআইআর-এর প্রতিবাদে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছেন তিনি। কিন্তু ১৫ বছর আগের সেই আন্দোলন কেমন ছিলো বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সেদিনের রাজনীতিতে সৌজন্য ছিলো। জ্যোতি বসু বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও তার কাছে নির্দ্বিধায় প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ছুটে যেতে পেরেছি। এখনও বাম বর্ষীয়ান নেতাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌজন্যের রাজনীতি ভুলছে রাজনীতিকরা। ফলে রাজনীতিতে কমছে সৌহার্দ্য। এমনটাই সাফ জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories