
‘’আমি নির্বাচন কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলেই ডাকতে চাই। এরা তুঘলক আর হিটলারের মতো আচরণ করছে। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, জনগণই তো সরকার নির্বাচন করে, তাই না? নাকি এই তুঘলকি কমিশন ঠিক করে দেবে কারা সরকার গড়বে? তিনি (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যের মতো আচরণ করছেন এবং নির্বাচনের আগে সেই দলকে অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন।''
‘’হরিয়ানা, বিহার এবং মহারাষ্ট্র থেকে প্রচুর অভিযোগ আসছে। সত্য বেশিক্ষণ চাপা থাকে না, তা বেরিয়ে আসবেই। আমার প্রশ্ন হল, SIR চলাকালীন যে নথিগুলো বিহারে গ্রাহ্য ছিল, সেগুলো বাংলায় কেন গ্রাহ্য হবে না? বাংলাকে কেন নিশানা করা হচ্ছে? আমি বিহারের নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তিটি দেখাতে চাই। যোগ্যতার মানদণ্ডগুলো পড়ে শোনাচ্ছি। সবার তো আর পাসপোর্ট থাকে না। সেখানে বলা আছে, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত যেকোনও পরিচয়পত্র, পেনশনের পেমেন্ট অর্ডার গ্রাহ্য হবে। এমনকি ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং এলআইসি-র নথিও সেখানে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া জন্ম শংসাপত্রও গ্রাহ্য করা হয়েছে। আগে তো ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি খুব কম হতো, তাই স্থানীয় বা রাজ্য কর্তৃপক্ষের তৈরি ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ সেখানে মেনে নেওয়া হয়েছে। যদি ওই রাজ্যে এই সব নথি গ্রাহ্য হয়, তবে বাংলায় কেন হবে না?''
‘’সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল SIR শুনানির শেষ দিন। কিন্তু সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিকেল ৩টে নাগাদ কেন লগ-ইন ব্লক করে দেওয়া হল? এর ফলে প্রায় এক লক্ষ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন, কারণ তাঁরা আর লগ-ইন করতে পারেননি। এই তুঘলকি কমিশন ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। বিজেপির এক নেত্রী AI এবং বিজেপির আইটি সেল ব্যবহার করে এই ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছেন। প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই চ্যাপ্টারটা ধামাচাপা পড়ে গেল কেন?''
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন যে, ‘’কোন ভোটারদের নাম গ্রহণ করা হল আর কাদের নাম বাতিল হল, আজ পর্যন্ত আপনারা কি দেখতে পেয়েছেন? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে হয়তো দেখবেন প্রচুর নাম উধাও। এক বিশাল জালিয়াতি চলছে। বিহারে উপযুক্ত রাজ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র যদি গ্রাহ্য করা হয়, বাংলায় কেন তা হবে না? বিহারে ফরেস্ট রাইটস সার্টিফিকেট গ্রাহ্য, কিন্তু এখানে নয়। একইভাবে, সেখানে সরকার প্রদত্ত জমি বা বাড়ি বন্টনের শংসাপত্র গ্রাহ্য করা হয়েছে। তবে এখানে কেন তা বাতিল করা হচ্ছে?''
‘’ ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই লগ-ইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। ওদের ধৃষ্টতা দেখুন! এর মধ্যে দিয়ে এক ‘থ্রেট কালচার’ ফুটে উঠছে। আপনারা ERO-দের কেন সাসপেন্ড করলেন? এমনকি একজন অপরাধীরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থাকে। সাসপেন্ড করার আগে আপনারা কি একবারও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন বা তাঁদের তথাকথিত ভুলগুলো জানিয়েছেন? এই তুঘলকি কমিশন হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠাচ্ছে। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুর আর রাতের খাবার—সারাদিন ধরে কমিশন একের পর এক নির্দেশ পাঠিয়ে গেছে যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বিভ্রান্তিকর। এটা পুরোপুরি বেআইনি।''
‘’আমি এমন তুঘলকি কায়দার নির্বাচন কমিশন আগে কখনও দেখিনি। এরা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এরা এখন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বুলডোজ়ার দিয়ে পিষে দিচ্ছে। তারা প্রত্যেকটি রাজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এরা হুমকির সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। আমরা আইন মেনে চলব। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসরণ করব। কিন্তু আইনেরও কিছু সীমা ও গণ্ডি থাকে। আপনারা যদি সেই সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে সাধারণ মানুষ আপনাদের মাঠের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেবে।''
‘’আমাদের মধ্যে কেউ কি জানি কতজন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে? এই পর্যন্ত কাদের নাম তালিকায় উঠেছে আর কাদের নাম কাটা গেছে, সে সম্পর্কে কি আমাদের কোনও ধারণা আছে? এখন এই তুঘলকি কমিশন একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করেছে। যখন ERO-রা নাম আপলোড করছেন, তখন তা বিফল (error) হিসেবে দেখাচ্ছে, যার অর্থ হল নামটি তালিকায় নেই। এখন এরা ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু, দরিদ্র, তপশিলি জাতি ও জনজাতিদের টার্গেট করছে। logical discrepancies-র নামে তারা মহিলাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যুব সম্প্রদায়ও এমনকি নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাচ্ছে না।''
SIR করার জন্য আপনাদের কাছে ২৪ বছর সময় ছিল। কে আপনাদের বাধা দিয়েছিল? কেন আপনারা ঠিক নির্বাচনের তিন মাস আগে, উৎসবের সময় চলাকালীন SIR করার সিদ্ধান্ত নিলেন? গত তিন-চার মাস ধরে, এই তুঘলকি কমিশন দিল্লির জমিদারদের নির্দেশে রাজ্য সরকারের সমস্ত ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। আপনি কি মনে করেন আপনার চেয়ারটা থেকে থাবে? তিনি সাধারণ মানুষ এবং নির্বাচনী আধিকারিক—সকলকে অত্যাচার করছেন। ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। BLO-রা তাদের সুইসাইড নোটে এই তুঘলকি কমিশনকে দায়ী করেছে। বিজেপি কোনও ERO-র বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু যে নির্বাচন কমিশনকে BLO-রা তাদের সুইসাইড নোটে দায়ী করেছে, সেই কমিশনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত? আইন সবার জন্য সমান।
‘’জেলাশাসকদের চাকরি যাওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। আপনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আর কতদিন ওই পদে থাকবেন? ২০২৬ সালের পর কেন্দ্রীয় সরকারের পতন হবে। অনেক কিছুই ঘটে গেছে। আমরা সৌজন্য দেখিয়েছি। আমরা সংসদ সচল রেখেছি। তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সংবিধান মেনে চলে। কেউ যদি মনে করে তারা জোর করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে, তবে আমি আবারও মনে করিয়ে দিই—আক্রমণ করা হলে আমি পাল্টা আঘাত করি।''