
Chorbagan Update: সপ্তমীর রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন অতিক্রান্ত। পদপৃষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার চোরবাগানের মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব কলকাতা পুলিশের। বুধবারের মধ্যে তাকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। সূত্রের খবর, মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল ছাড়াও আরও ২ জন প্রত্যক্ষদর্শীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপ তৈরির সময় তার ভিতরে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য ব্যবস্থাপনা কেমন ছিলো? এবং কার ভুলে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল? সেই সমস্ত বিষয় নিয়েই পুলিশি জেরার মুখে পড়তে পারেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠিক কী ঘটেছিল দুর্ঘটনার আগের মুহুর্তে? তা জানতে এবার প্রত্যক্ষদর্শীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বয়ান রেকর্ড করতে চাইছে পুলিশ। শুধুমাত্র ঘোষক নাকি এই দুর্ঘটনার পিছনে আর কার কার হাত থাকতে পারে তা জানতে সেই সময় মণ্ডপের আসেপাশে লাগানো ৩৩টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখবে পুলিশ। যদিও দুর্ঘটনাস্থলের ১৬টি সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনায় কাদের এবং কোথায় গাফিলতি ছিল এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এ ক্ষেত্রে ঘটনার সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশ অফিসাররা।
চোরবাগান কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । সিটের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্যান্ডেল পুরো অক্ষত রাখতে চাইছেন তারা। প্যান্ডেল অক্ষত রেখে কোনও রকম বরণ, সিঁদুরখেলা ছাড়ায় কলকাতা পুলিশের ঘেরাটোপে নিরঞ্জন করা হয়েছে চোরবাগানের প্রতিমা।
এদিকে, বিমল সামন্ত থেকে ধীমান সুতার হয়ে, তারপরে রিন্টু দাস এবং অবশেষে সুশান্ত শিবানি পাল। চোরবাগানের মণ্ডপের কারিগর সুশান্ত শিবানি পাল। চোরবাগানের এই মণ্ডপের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিমা মণ্ডপের ভেতরেই তৈরি হয়ে আসছে। বিশেষ করে সুশান্ত শিবানি পাল তিনি প্রত্যেকটি পুজোর ক্ষেত্রেই, পুজোর একদিকে তিনি মণ্ডপ নিজে স্ট্রাকচার করেন এবং তার মধ্যে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। এবং শেষ পর্যন্ত যখন বিসর্জনের সময় আসে, তখন মণ্ডপের পেছন দিকের অংশ অর্থাৎ প্রতিমার পিঠের দিকের অংশ, সেই অংশটা সম্পূর্ণ খুলে সেখান থেকে প্রতিমা বার করে ট্রাকে তুলে তারপর বিসর্জনের পথে যায়।
এটা এত বছর ধরে হয়ে আসছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি এই বছর চোরবাগানে তদন্তকারী দল তাদের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তিনি বলেছেন মণ্ডপ যতটা সম্ভব কম ভেঙে প্রতিমা বার করতে হবে। অতএব প্রতিমা বার করার অনুমতি পাওয়া গেছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে বেশ কিছু টেকনিক্যাল ফাঁকফোকর বা অসুবিধা একটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের গাইডলাইনে মেনেই বিসর্জন দেওয়া হয়েছে প্রতিমা।।